আগামীর সময়

সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে মার্চের শুরুতে

সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে মার্চের শুরুতে

ফাইল ছবি

নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর জাতীয় সংসদ সচিবালয় এখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আয়োজনের সব প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই অধিবেশন আহ্বান করবেন। আগামী মার্চ মাসের শুরুতে সংসদ অধিবেশন বসার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়। আগামী সপ্তাহে এসংক্রান্ত ফাইল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে।

সংসদ অধিবেশনের প্রস্তুতির পাশাপাশি অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার নির্বাচন সেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সভাপতিত্ব করতে পারেন বলে জানা গেছে।

সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ২ উপধারা অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। অধিবেশনটি ডাকবেন রাষ্ট্রপতি, তবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তা করবেন।

প্রথম বৈঠকের তারিখ ও সময় নির্ধারণ রাষ্ট্রপতির আদেশেই হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল সরকারিভাবে গেজেট আকারে প্রকাশ হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। সে হিসাবে আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে ৮ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে এই অধিবেশন বসতে পারে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই প্রস্তুতি শুরু করেছে সংসদ সচিবালয়।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক এমদাদুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর থেকে সংসদ অধিবেশনের প্রস্তুতি শুরু করেছে সংসদ সচিবালয়। সংসদ ভবনের ভেতর ও বাইরে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতির কাজ শেষ হয়েছে। অধিবেশনের জন্য অধিবেশনকক্ষ ও সেখানকার সাউন্ড সিস্টেম প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রটোকল, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সংসদের আইন শাখা থেকে অধিবেশন আহ্বান করতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ দিয়ে দ্রুতই রাষ্ট্রপতির দপ্তরে ফাইল পাঠানো হবে। ঈদের আগে অধিবেশন শুরু হলেও বিরতি দিয়ে এই অধিবেশন এপ্রিল পর্যন্ত চলতে পারে। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে কে সভাপতিত্ব করবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’

সংবিধানের ৭৪(৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘সাধারণ নির্বাচনের পর নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকে নতুন স্পিকার কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার স্বীয় পদে বহাল আছেন বলে গণ্য হবেন। অর্থাৎ তিনি নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন এবং নতুন স্পিকার নির্বাচনে সহায়তা করবেন। যদি স্পিকারের পদ শূন্য থাকে বা তিনি কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হন, তবে পূর্ববর্তী সংসদের ডেপুটি স্পিকার প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।’ কিন্তু ২০২৪-এর ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর সংসদ বিলুপ্ত হলে স্পিকার পদত্যাগ করেন এবং ডেপুটি স্পিকার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। যে কারণে বিষয়টি নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক আলোচনা চলছে, আসন্ন প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন?

সূত্র জানায়, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলেও সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করা নিয়ে সংবিধানে সুস্পষ্ট সমাধান রয়েছে। সংবিধানের ৭৪(৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়ের পদই শূন্য থাকে বা তাঁরা অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকেন, তবে রাষ্ট্রপতির মনোনীত কোনো ব্যক্তি (সাধারণত প্রবীণ কোনো সংসদ সদস্য বা সিইসি) ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারেন। অর্থাৎ বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি দল বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করে যেকোনো একজনকে রাষ্ট্রপতি সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য মনোনীত করবেন। সে ক্ষেত্রে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন হতে পারেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তিনিই সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করিয়েছেন। এর বাইরে সরকারদলীয় কোনো একজন সিনিয়র সংসদ সদস্যকেও এই দায়িত্ব প্রদানের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

    শেয়ার করুন: