টিকা ও মায়েদের পুষ্টিহীনতাকে দুষলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে প্রতিদিনই হাম ও এর উপসর্গে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গতকাল রবিবারও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর এসবের জন্য টিকার সংকটকেই দায়ী করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল এক সেমিনারে মন্ত্রী বলেছেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে দেশে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এ জন্য পর্যাপ্ত হামের টিকা মজুদ ছিল না। এমনকি ২০২৬ সালে কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগপর্যন্ত হামের কোনো টিকা দেওয়া হয়নি। এ সময় দেশে টিকার ঘাটতি ছিল। তাই বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্যাপ্ত টিকা পায়নি। টিকার এ সংকটই এই বছর হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার প্রধান কারণ।
এ বছর দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার আরেকটি কারণ হিসেবে মন্ত্রী মায়েদের পুষ্টিহীনতাকেও দায়ী করেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। সেখানে অনেক মায়ের শারীরিক অবস্থা এতটাই দুর্বল, তারা সন্তানকে ঠিকভাবে দুধ পান করানোর অবস্থায় নেই। এ ছাড়া যেসব মা সন্তান জন্ম দিচ্ছেন, তাদের অধিকাংশের বয়স ২০ বছরের নিচে। দেশে হাম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব।’
সেমিনারে হাম ও ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক সচেতনতা এবং মাতৃস্বাস্থ্যের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে মায়ের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং জন্মের পর শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি।
এসবের জন্য সচেতনতামূলক সেমিনার ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, হামে মানুষ মারা যাচ্ছে, এখন বসে থাকার সময় নেই। সবসময়ের মতো এবারও ড্যাবকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। এ জন্য জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোয় সচেতনতামূলক সেমিনার ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে হবে।




