পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু, আরও এগোলো রূপপুর
- প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অগ্রগতি

অবশেষে রূপপুরে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে শুরু হয়েছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বড় অগ্রগতি এটি, যাকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ রবিবার বিকাল ৩টা ৩৪ মিনিটে রূপপুরে পারমাণবিক এই বিক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে আগামীর সময়কে নিশ্চিত করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দুজন কর্মকর্তা।
ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি ধাপে প্রথমে চুল্লিতে খুব কম শক্তিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা হয়। এ সময় চুল্লির বিভিন্ন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তারও পরীক্ষা হবে।
একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধীরে ধীরে চুল্লির শক্তি বাড়িয়ে শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন লাগতে পারে। এই ধাপে চুল্লির ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি চালু করা হবে টারবাইন। এরপর জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করে পরীক্ষামূলকভাবে সরবরাহ করা হবে বিদ্যুৎ।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আগে নিতে হবে আরও দুটি অনুমোদন।
শুরুতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষমতায় চালানো হবে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন ২০ থেকে ৩০ শতাংশে নেওয়া হবে। সব পরীক্ষা সন্তোষজনক হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। ডিসেম্বরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পর ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে এর উৎপাদন। পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন শুরুর পর কিছুদিন চলবে পরীক্ষামূলক উৎপাদন। এরপর শুরু হবে বাণিজ্যিক উৎপাদন। এতে প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস সময় লাগতে পারে।
রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে যুক্ত হবে বাংলাদেশ। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন একটি উৎস যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি শুরু হবে পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতার নতুন অধ্যায়ও।
দুই ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০০ মেগাওয়াট। যেখান থেকে প্রায় ২৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। প্রথম ইউনিটের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও চলছে পুরোদমে। দুই ইউনিটের বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হলে বিদ্যুতের লোডশেডিং কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি আমদানিতে সাশ্রয় হবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। তেল, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের তুলনায় পারমাণবিক বিদ্যুতের দামও পড়বে কম।




