ইউরোপে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

সংগৃহীত ছবি
অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, প্রত্যাবাসন এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের জন্য ইউরোপে নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ।
আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের জন্য বাস্তবসম্মত, চাহিদাভিত্তিক ও ফলাফলমুখী ‘মোবিলিটি করিডোর’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে নিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ইউরোপে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনবিষয়ক গ্লোবাল কমপ্যাক্টের (জিসিএম) লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের নেওয়া ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০’ তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৈঠকে ইইউ কমিশনার ‘ইস্টার্ন করিডোর ইনিশিয়েটিভ’ উপস্থাপন করেন। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো অভিবাসীদের উৎস ও ট্রানজিট দেশ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ করা।
এ উদ্যোগের বিষয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানান। এর মধ্যে নথিপত্র জালিয়াতি ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। তিনি বলেন, নিয়মিত অভিবাসনের পথ সুগম করতে অনিয়মিত অভিবাসনের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধান করা জরুরি।
অভিবাসন সমস্যার সামগ্রিক সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে উভয় পক্ষ এ খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়।
বৈঠকে ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ বহুমুখী অংশীদারত্ব জোরদারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি পারস্পরিক অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয় উভয় পক্ষ।



