বাতিল হচ্ছে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া সেই শিক্ষকের আদেশ

ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীকে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ছবি: সংগৃহীত
নারী সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে। তবে তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে সমালোচনার পর অবশেষে বাতিল হচ্ছে এ সিদ্ধান্ত। জয়পুরহাট সরকারি কলেজের সহযোগী এ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে চলবে বিভাগীয় মামলা। আগামীর সময়কে এসব তথ্য জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।
সচিব বলেন, ‘ওই শিক্ষক তার নারী সহকর্মীকে ধর্ষণ বা হেনস্থা করেছেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তাছাড়াও তার জন্য একজন নারী এমপি ডিও লেটার দিয়েছেন, সেটিও জানতাম না। বিষয়টি আমার নজরে আসার পরই আমি ফাইল তলব করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজই (বৃহস্পতিবার) তার বিভাগীয় শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশটি বাতিল করা হবে। তার মানে সে আগের অবস্থানে ফিরে যাবে। তার বিরুদ্ধে যথারীতি বিভাগীয় মামলা চলমান থাকবে।’
বিভাগীয় মামলার সেই নথি থেকে জানা যায়, ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে কর্মরত থাকাকালে এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্তে তার বিরুদ্ধে নৈতিক চরিত্রের স্খলন ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তবে সম্প্রতি বগুড়া-জয়পুরহাটের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিনের একটি আধা-সরকারি (ডিও) চিঠির সুপারিশে তাকে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অভিযোগের তদন্ত চলাকালে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের হাজী আবদুল বাতেন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে বদলি করা হয় জয়পুরহাট সরকারি কলেজে।
এ বছরের ২২ জানুয়ারি অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নেন তৌহিদুল আলম চৌধুরী। ওই শুনানিতে তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বিষয়টি অধিকতর তদন্তে একজন অতিরিক্ত সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ৬ জুলাই এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। ওই প্রতিবেদনেও ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আংশিক প্রমাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
এরপর তাকে কোনো শাস্তি না দিয়েই বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ফাইল তলবের পর ওই অব্যাহতির আদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।







