প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংকট মেটাতে নাটোরে পুতুল

নিজ নির্বাচনী এলাকায় দলীয় প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, মামলা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল দ্রুত নিরসনে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত সোমবার রাতে প্রতিমন্ত্রীকে ডেকে নিয়ে এ নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাকে এলাকায় অবস্থান করতে বলা হয়। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত সোমবার আগামীর সময়ে ‘প্রতিমন্ত্রীর প্রশ্রয়ে দুই বাহিনীর তাণ্ডব’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রতিমন্ত্রী পুতুলকে এমন নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
ফারজানা শারমিন পুতুলের নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে আগামীর সময়ের প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি দেশ জুড়ে আলোচনায় আসে। জানা গেছে, আলোচিত এই প্রতিবেদন সোমবারই নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তিনি আগামীর সময়ের প্রথম সংখ্যা নিজেই চেয়ে নিয়ে প্রতিবেদনটি পড়েন। এর পরই পুতুলের ডাক পড়ে। প্রধানমন্ত্রী পুতুলকে এলাকায় গিয়ে চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না করা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের নির্দেশ দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালনে গতকাল মঙ্গলবার ভোরেই সড়কপথে নাটোরের পথে রওনা হন পুতুল। সকাল পৌনে ১০টার দিকে নাটোর জেলা প্রশাসন চত্বরে ভূমিমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানস্থলেই তাকে নাটোর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক এবং বিএনপির স্থানীয় নেতা আসাদুজ্জামান আসাদসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। ভূমিমেলার অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে গিয়ে কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করেন প্রতিমন্ত্রী। দুপুর ১২টার দিকে সেখান থেকে ফের সড়কপথেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। নাটোরে এদিন দুই ঘণ্টার সফরে নিজের নির্বাচনী এলাকায় (লালপুর-বাগাতিপাড়া) গিয়ে দলের কোনো নেতাকর্মীর সঙ্গে তার বৈঠক বা আলোচনার খবর পাওয়া যায়নি।
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানালেন, তার সঙ্গেও লালপুর-বাগাতিপাড়ার আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী পুতুলের কোনো কথা হয়নি। পুলিশ সুপার আগামীর সময়কে বললেন, ‘প্রতিমন্ত্রী এসে সরকারি এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ঢাকা ফিরে গেছেন। আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিষয়ে তার সঙ্গে আমার কোনো আলাপ হয়নি।’ প্রতিমন্ত্রীর গতকালের পূর্বনির্ধারিত সফরসূচিতে দেখা গেছে, এদিন রাজধানী ঢাকায় দুটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল ফারজানা শারমিন পুতুলের। এর একটিতেও যোগ দেননি। নাটোরে ভূমিমেলার যে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী যোগ দেন, তা তার দৈনন্দিন কর্মসূচিতেই উল্লেখ ছিল না। সময় ও নির্ধারিত কোনো অনুষ্ঠানের উল্লেখ না করে দৈনন্দিন কর্মসূচির তালিকার একেবারে ওপরে শুধু লেখা ছিল ‘নাটোর সফর’।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত কোনো কর্মসূচি না থাকলেও সোমবার রাতে হঠাৎই প্রতিমন্ত্রী পুতুল নাটোরের জেলা প্রশাসককে ফোন করে নিজের নির্বাচনী এলাকার বাইরে জেলা প্রশাসন চত্বরে ভূমিমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
কারও কারও ধারণা, এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা বলে কৌশলে তিনি নাটোর গিয়ে জেলা প্রশাসক, জেলার পুলিশ সুপার ও তার অনুসারী স্থানীয় নেতাদের বার্তা দিয়ে আসতে পারেন।
জানতে চাইলে নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন আগামীর সময়কে বললেন, ‘প্রতিমন্ত্রী আমাদের শিডিউল দিয়েই এসেছিলেন। তিনি ভূমিমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি থেকে র্যালিতে অংশ নিয়েছেন। অনুষ্ঠান শেষে দুপুর ১২টার পর তাকে আমরা ঢাকার উদ্দেশে বিদায় দিয়েছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেছেন, ‘ভূমিসেবা সহজ করার বিষয়ে তার (পুতুল) সঙ্গে কিছু আলোচনা হয়েছে। তার এলাকায় বালু উত্তোলনের অবৈধ ব্যবসা বা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনো আলাপ হয়নি।’




