ব্রুনাই থেকে আসছে ১ লাখ ২০ হাজার টন জ্বালানি তেল

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতে চলছে অস্থিরতা। সংকট সামাল দিতে প্রচলিত উৎসের বাইরে গিয়ে দ্বীপরাষ্ট্র ব্রুনাই থেকে জ্বালানি তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ।
প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ২০ হাজার টন আমদানি করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত। ব্রুনাই থেকে তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বললেন, শিগগিরি তা এসে পৌঁছাবে দেশে।
দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে গেল কয়েকদিনে তৈরি হওয়া আশঙ্কা-উৎকণ্ঠা অচিরেই কেটে যাবে বলে মনে করছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।
তার তথ্য, জ্বালানি তেলের এখন পর্যন্ত কোনো সংকট নেই। তেলের মজুদ পর্যাপ্ত। অমুলক আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কিনছে মানুষ। প্রয়োজন নেই, তারপরও ট্যাংকি ভরে তেল নিচ্ছেন সবাই। এতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও হট্টগোল হচ্ছে।
‘স্বাভাবিক সময়ে যখন দিনে ১২ হাজার টন তেল বিক্রি হয়, সেখানে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ২৫ হাজার-৩০ হাজার টন করে তেল বিক্রি হয়েছে। যুদ্ধ প্রলম্বিত হতে পারে, এই ভয়ে তেল কেনার পরিমাণ দুই-তিন গুন বেড়ে গেছে’, পর্যবেক্ষণ প্রতিমন্ত্রীর।
কৃত্রিম সংকট এড়াতে সরকার এরইমধ্যে বিভিন্ন যানবাহনে জ্বালানি তেল কেনার সীমা বেঁধে দিয়েছে। রবিবার থেকে রেশনিং করে বিক্রি হবে তেল। এক্ষেত্রে ফিলিং স্টেশনগুলো গত বছর এই সময়ে যে পরিমাণ তেল কিনেছে, তার চেয়ে ২৫ শতাংশ কম তেল বিক্রি করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
এদিকে, বোরো মৌসুমে কৃষকের জমিতে সেচ দেওয়ায় প্রয়োজনীয় ডিজেল নিয়ে উদ্বেগে আছেন কৃষকরা। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সংকটের খবর না মিললেও কিছু জায়গা থেকে চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ার অভিযোগ আসছে।
এ বিষয়ে অনিন্দ ইসলাম অমিত বলেছেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। সেখানে আলোচনায় এসেছে বিষয়টি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।’
বিপিসি সূত্রের তথ্য, চলতি মাসে ১৪ কার্গো জ্বালানি তেল আমদানির যে এলসি দেওয়া হয়েছিল, তার প্রায় সবগুলোই ইতোমধ্যে চলে এসেছে। কিছু আছে পথে। আগামী ১০ তারিখের পর ধীরে ধীরে সেগুলো আসতে থাকবে। সুতরাং এ মাসে মজুতের কোনো সংকট হবে না। এপ্রিলে ১৫ টি কার্গোর মধ্যে ২টি পরের মাসে আসবে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।
তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে স্বাভাবিক পথে তেল আমদানি কিছুটা বাধাগ্রস্থ হতে পারে। বিকল্প হিসেবে ব্রুনাইয়ের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকেও তেল কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
তবে আশার কথা হলো- বিরোধপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চীনা জাহাজ আসার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ নেই। ফলে বাংলাদেশ কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। এক্ষেত্রে দাম কিছুটা বাড়তে পারে। তবে সরকার না বাড়ালে সেই দাম ভোক্তা পর্যায়ে বাড়বে না।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করে বিপিসি। তবে এই মুহূর্তে গ্যাস-বিদ্যুৎ কিংবা জ্বালানি তেলের কোনো মূল্যবৃদ্ধির পরিকল্পনা নেই বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

