কৃষিমন্ত্রী
প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিতে এগিয়ে চলছে সরকার

সংগৃহীত ছবি
প্রযুক্তি ও ডেটানির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণনে কাজ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ। তিনি বললেন, ‘কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারজাতকরণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং রপ্তানি প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ততার লক্ষ্যে সরকার কৃষি খাতে একটি মৌলিক রূপান্তর কার্যক্রম শুরু করেছে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে নরসিংদী-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
আমিনুর রশিদ বলেছেন, ‘প্রযুক্তি ও ডেটানির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন অংশ হিসেবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কৃষকের পণ্য ‘ডোর টু ডোর’ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। ফলে উৎপাদক থেকে সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমে আসবে।’
তিনি আরও জানান, গত পহেলা বৈশাখ প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইল সদরসহ দেশের ১১টি উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের প্রি-পাইলট কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। এর মাধ্যমে কৃষকরা ১০ ধরনের সেবা পাবেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে উৎপাদিত পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সুযোগ, বাজার সংযোগ এবং বিভিন্ন সহায়তা সেবা।
রপ্তানি সম্প্রসারণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেছেন, কৃষিপণ্য রপ্তানি প্রক্রিয়ায় কৃষকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করতে চুক্তিভিত্তিক কৃষি (কন্ট্রাক্ট ফার্মিং) উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্যভিত্তিক রপ্তানি অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
আমিনুর রশিদ জানান, ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় কৃষি উপকরণ সরবরাহ, পরামর্শ সেবা, সংগ্রহ কেন্দ্র (কালেকশন পয়েন্ট), ক্রয়-বিক্রয় সুবিধা, ওয়াশিং সুবিধাসহ আধুনিক ‘ওয়ান স্টপ হাব’ নির্মাণ করা হবে, যা কৃষি বিপণনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ডিজিটাল সংযোগ জোরদারে ‘স্মার্ট কৃষি মার্কেট’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
এটির মাধ্যমে কৃষক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং ভোক্তার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেছেন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর এরই মধ্যে ফসলভিত্তিক রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হবে।
মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাত আরও আধুনিক, লাভজনক এবং টেকসই হয়ে উঠবে।



