সংসদে সরকারি দলের সদস্যরা
এ মেয়াদেই বাংলাদেশ হবে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ

সংগৃহীত ছবি
বর্তমান বিএনপি সরকারের মেয়াদকালেই বাংলাদেশ পরিণত হবে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে।
গতকাল রবিবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এ আশা প্রকাশ করেছেন সরকারি দলের সদস্যরা।
তারা বলছিলেন, দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ আলোচনায় অংশ নিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত। ‘ইতোমধ্যে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এসব অঙ্গীকার সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে আসবে ব্যাপক পরিবর্তন।‘
বিরোধীদলের সমালোচনা করে বলছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিরোধীদল। বিএনপিকে আইন প্রণয়নের ম্যান্ডেট দিয়েছে জনগণ, তাই সবকিছু হবে আইনি কাঠামোর মাধ্যমেই।’
গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ভাষণ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় ঠিক করে দেয় কার্য-উপদেষ্টা কমিটি। ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, তা সমর্থন করেছেন হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন। ‘প্রায় দুই দশক পর জনগণ প্রকৃত গণতন্ত্র চর্চার উপযোগী একটি সংসদ পেয়েছে।‘
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানের অভিযোগ, ‘জুলাই অভ্যুত্থানকে পুঁজি করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বিরোধীদল। ১৪ এপ্রিল এক বিবৃতিতে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ১২০০ শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বলেছেন বিরোধীদলীয় এক নেতা। কিন্তু গেজেট অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা ৮৩৪।’
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলছিলেন, জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি করতে চায় না সরকার। তাই বিরোধীদলকেও এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর বর্ণনা তৈরি না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত জানাচ্ছিলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য সংসদ গঠিত হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারের ভেতরে দেখা যাচ্ছে ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি।
এদিকে ঢাকা-১৬ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল বাতেন তার নির্বাচনী এলাকায় বসবাসরত বিপুলসংখ্যক উর্দুভাষী মানুষের পুনর্বাসনে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সরকারকে।
আলোচনায় আরও ছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৭), আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল-৭), মোরশেদ মিল্টন (বগুড়া-৭), বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম (নড়াইল-১), রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১), আহাম্মদ সোহেল মনজুর (পিরোজপুর-২), তামিজ উদ্দিন (ঢাকা-২০), নূরুল ইসলাম (ভোলা-৪), মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (নারায়ণগঞ্জ-১), জামায়াতে ইসলামীর এম আবদুল আলিম (বাগেরহাট-৪), আবদুল করিম (গাইবান্ধা-২), এম তাজউদ্দিন খান (মেহেরপুর-১), এম নজমুল হুদা (মেহেরপুর-২), আবুল কাউসার এম নজরুল ইসলাম (গাইবান্ধা-৩), আমির হামজা (কুষ্টিয়া-৩), আবুল কালাম আজাদ (খুলনা-৬), মো. ইজ্জতুল্লাহ (সাতক্ষীরা-১), মুহাম্মদ আবদুল খালেক (সাতক্ষীরা-২), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মোহাম্মদ উল্লাহ (ময়মনসিংহ-২) এবং স্বতন্ত্র সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমর (ময়মনসিংহ-১)।




