সংসদে প্রধানমন্ত্রী
সব উপজেলায় সরকারি হবে একটি করে মহিলা কলেজ

সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
সরকার দেশের সব উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারীকরণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর-পর্বে নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর এক প্রশ্নোত্তরে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই সংসদ সদস্য জানতে চান, নওগাঁর মান্দা উপজেলাধীন ‘মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ’সহ দেশের সব উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারীকরণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা; যদি থাকে তবে কতদিনের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা হবে?
এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান সরকার নারীশিক্ষার প্রসার এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারীকরণের বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। একটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হওয়ায় এখানে নারীশিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
‘মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজসহ দেশের অন্য উপজেলাগুলোর উপযুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারীকরণের বিষয়টি বিদ্যমান নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে’—যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন মাইক বিভ্রাটের কারণে আধাঘণ্টা দেরিতে বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে শুরু হয় সংসদ অধিবেশন। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর-পর্ব।
প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিল চারটি প্রশ্ন। প্রথম প্রশ্নটি ছিল এমপি সেলিম রেজার। তিনি জানতে চান, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনুগ্রহ করে বলবেন কি— শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, নতুন প্রজন্মকে মানসম্পন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে সংগতি রেখে সমমানের উচ্চশিক্ষা, তথ্য-প্রযুক্তি ও দক্ষতায় গড়ে তোলার লক্ষ্যে আপনার সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কি?’
সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ‘নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও সমমানের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে দেড় হাজার প্রতিষ্ঠানে (মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য নেওয়া হচ্ছে এডু-আইডি দেওয়ার উদ্যোগ। ইশতেহারে ছিল মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার।’
‘পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা আছে। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিক করার পাশাপাশি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদরাসায় চালু করা হবে ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই’। মাদরাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি কোর্স,’ যোগ করেন সরকারপ্রধান।
ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলছিলেন, ‘আগামী ৬ মাসের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপস ডেভেলমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন ইউজিং ফ্লুটার, প্রথম প্রোগ্রামিং ও অল বেইজড ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে শিক্ষার্থীদের। আইসিটি বিভাগের আওতাধীন কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে এ উদ্যোগ।’
ফ্যামিলি কার্ড নিয়েও প্রশ্ন করা হয় প্রধানমন্ত্রীকে। এ বিষয়ে সরকারপ্রধানের কাছে জানতে চান নোয়াখালী-১ আসনের এমপি এএম মাহবুব উদ্দিন। জবাবে ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’, এই দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে জানালেন তারেক রহমান।
‘প্রাথমিক পর্যায়ে গত ১০ মার্চ দেশের ১৩টি জেলা ও তিনটি সিটি করপোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে দেওয়া হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড। আগামীতে দেশের প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক পরিবারকে পর্যায়ক্রমে আনা হবে এ কার্ডের আওতায়। আশা করছি, সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্যদের স্বল্পতম সময়ের মধ্যে আনা সম্ভব হবে এর আওতায় ,’ বলছিলেন সংসদ নেতা।

