খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ৬,৬৫৩ পদ শূন্য, দ্রুত পূরণের সুপারিশ
- ওএমএস ডিলার নিয়োগে হচ্ছে নতুন নীতিমালা

সংগৃহীত ছবি
খাদ্য মন্ত্রণালয়ে বর্তমানে ৬ হাজার ৬৫৩টি পদ শূন্য রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির কর্মসূচি (ওএমএস) এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার নিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানায় খাদ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় আশাবাদ ব্যক্ত করে, নীতিমালা প্রণয়ন হলে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে।
বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদ সচিবালয় প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আলোচ্যসূচি অনুযায়ী বৈঠকের শুরুতে কমিটির সভাপতি, সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিচিতি পর্বে অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ অধিদপ্তর এবং সংস্থাসমূহের কার্যাবলী সম্পর্কে জানানো হয়।
বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জনবল ঘাটতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় বিভিন্ন পদে বর্তমানে ৬ হাজার ৬৫৩টি শূন্য পদ রয়েছে। এ বিষয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের কার্যক্রম বন্ধ করে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্য পদসমূহ পূরণের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।
অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে আবাদী জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে আলোচনা হয় বৈঠকে। এ ক্ষেত্রে কৃষিজমির পরিমাণ সংরক্ষণ এবং অকৃষি কাজে কৃষিজমির অননুমোদিত ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
বৈঠকে খাদ্যে ভেজাল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ বিষয়ে কমিটির সদস্য খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সচেতন। এ লক্ষ্যে খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর নজরদারি এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিশু খাদ্যসহ সকল খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ মাঠপর্যায়ে যাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, তার জন্য এ প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্টসহ শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিটি অফিসে মিনি ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং খাদ্যের ভেজাল মনিটরিং করার জন্য মোবাইল ভ্যান সরবরাহ করার কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম পিন্টু। তিনি বলেন, খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। জনগণের কাছে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে উপকারভোগী নির্ধারণে ত্রুটি যাতে না থাকে, সে লক্ষ্যে উপকারভোগী নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া অনুসরণের সুপারিশ করেন কমিটির সভাপতি। এ ছাড়াও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে তিনি কমিটির সদস্যগণসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন— খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, আবুল কালাম, আবু তালেব মন্ডল, মো. আব্দুল করিম ও শামছুন্নাহার বেগম। এ ছাড়াও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থাসমূহের প্রধানগণ, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



