পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ

সংগৃহীত ছবি
সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়াই সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য। আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে দেশের স্বার্থ হাসিল করা। সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনন্য। এক দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হলে তা অন্য দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজায় জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণ নিয়ে কথা বলেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। বললেন, ‘এটি ঢাকা ও তেহরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেরই প্রতিফলন। তবে বিরোধী দলের কেউ ব্যক্তিগতভাবে ইরান সফর করলে সেটি তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।’
তার দাবি, গত ১৭ বছরে যেসব দেশে অর্থ পাচার হয়েছে, সেসব দেশের নাম সবারই জানা। এসব দেশের সঙ্গেও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার রয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ১০টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যে চুক্তি হয়েছে, সেটিকে তিনি একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
শামা ওবায়েদ বললেন, ‘বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার একটি নির্ধারিত আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া রয়েছে। এটি রাতারাতি সম্পন্ন হওয়ার বিষয় নয়। তবে এ বিষয়ে সরকারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘চীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের একটি শক্তিশালী অংশীদার। দুই দেশের সম্পর্ক বরাবরই ভালো ছিল। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মাধ্যমে সেই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে সরকার আশাবাদী।
‘চীনের প্রস্তাবিত ‘টু প্লাস টু’ বৈঠক এবং করিডোর-সংক্রান্ত প্রস্তাব সরকার পর্যালোচনা করছে। দেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হলে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’—যোগ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা। প্রতিটি সিদ্ধান্তে দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।’





