আগামীর সময়

আসিফকে ‘জুলাইযোদ্ধার’ প্রশ্ন- বন্যার টাকা কই?

আসিফকে ‘জুলাইযোদ্ধার’ প্রশ্ন- বন্যার টাকা কই?

সংগৃহীত ছবি

চব্বিশের সরকারপতনের পরপরই ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত হয় ফেনীসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ১১ জেলা। সে সময় বন্যার্তদের সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে ত্রাণের টাকা তুলে ব্যাপক সমালোচিত হন অভ্যুত্থানের প্রথম সাড়ির নেতারা। বিভিন্ন সময় তাদের কাছে চাওয়া হয় সেই টাকার হিসাব। 

সেই নেতাদের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা প্যানেলে যাওয়া আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে দেড় বছর পর মুখোমুখি হতে হলো প্রশ্নটির- ‘বন্যার টাকা কই?’

সাবেক এই উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফকে মঙ্গরবার এ প্রশ্ন করেন নিজেকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ দাবি করা এক ব্যক্তি।

ঈদুল ফিতরের পরিকল্পনা নিয়ে বিকালে সংবাদ সম্মেলন ডাকে এনসিপি। সেখানকার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে।

তাতে দেখা গেছে, এনসিপি নেতা আসিফ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন। হঠাৎ সামনে থেকে এক ব্যক্তি তাকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, ‘আপনাদের কাছে বন্যার যে টাকাগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকাগুলোর কি হিসাব এখন পাওয়া যাবে? বন্যার টাকা তো ফান্ডে দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকাগুলো কোথায়?’

আসিফ এর কোনো জবাব দেননি। তখন ওই ব্যক্তিকে নিয়ে হট্টগোল শুরু হয়। সাংবাদিকরা পরিচয় জানতে চাইলে নিজেকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ বলেন ওই ব্যক্তি। এরপর আসিফ মাহমুদকে ‘সন্ত্রাস’ ও ‘মববাজ’ বলতে থাকেন।

‘বন্যার টাকা কোথায় গেছে, সেটি কি আমি জানতে চাইতে পারি না। উনি (আসিফ মাহমুদ) কোটি টাকার গাড়িতে চড়েন, এই টাকা কই থেকে আসে’- ফের প্রশ্ন ছোড়েন ওই ‘জুলাইযোদ্ধা’।

গত বছরের ২১ জুলাই ফেনী সফরকালে সাংবাদিকদের থেকে এমন প্রশ্ন পান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের তৎকালীন সমন্বয়ক ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

জবাবে বলেছিলেন, ‘এটি এক বছর আগের আলাপ। টিএসসিতে আমাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণের যত টাকা উঠানো হয়েছিল তা আন্তর্জাতিক একটি ফার্মের মাধ্যমে অডিট করে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছিল। পাই টু পাই টাকা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যে ফান্ড রয়েছে সেখানে জমা দিয়েছি।’

এর আগের মাসেই এক সংবাদ সম্মেলনে ওঠে একই প্রশ্ন। জবাবে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছিলেন, ‘সে সময়ে আমরা প্রতিদিন যখন যা পেয়েছি তার আপডেট দিয়েছি। একটা সময় আমাদের পক্ষে সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় আমরা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিতরণের জন্য দিয়েছি। বিতরণের পর ১৬ কোটি টাকার হিসাব অডিট কমিটির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুই বা তিন লাখ টাকার হিসাব দিতে পারিনি। আপনার চাইলে মন্ত্রণালয় থেকে জানতে পারেন।’

    শেয়ার করুন: