সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড : রায়ের কপির অপেক্ষায় বাংলাদেশ

শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: ভিডিও থেকে
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিচারিক রায়ের কপি চেয়েছে বাংলাদেশ। কপি হাতে আসার পর এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করে মরদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শামা ওবায়েদ বলেছেন, ২০২৩ সালে অভিযুক্তদের আটক করে সৌদি পুলিশ। এ সময়ের মধ্যে তাদের পরিবারের কোনো সদস্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। রায়ের কপি হাতে এলে তাদের পরিচয় ও দুজনের মধ্যে কী সম্পর্ক ছিল তা জানা যাবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সৌদির বিভিন্ন এলাকায় অনেক বাংলাদেশি কারাভোগ করছেন। নিয়মিতভাবে তারা বাংলাদেশের কাছে এ তালিকা পাঠায়, সেখানেও খতিয়ে দেখছে মন্ত্রণালয়। আমরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। ধৈর্য ধরুন, রায়ের কপি হাতে পেলে বিস্তারিত জানানো যাবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আধা বেলার মধ্যে দেশের প্রধানমন্ত্রী, পুরো মন্ত্রিসভা এমনকি বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিবও দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। এটাকে কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। শেখ হাসিনাকে নিয়ে কথা বলা সময়ক্ষেপণ ছাড়া আর কিছু নয়।
এর আগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য বিনিময়ে ঘাটতি ছিল বলে জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ ঘাটতি কেন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
সৌদির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বললেন ‘সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ভালো ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরব জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। এ ঘটনায় তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় কোথায় ঘাটতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তথ্য আদান-প্রদানের প্রক্রিয়ায় কেন ঘাটতি হয়েছে, তা জানতে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চলছে’— যোগ করেন তিনি।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেছেন, রায় কার্যকর হয়ে যাওয়ায় এখন ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ নেই। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো, তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় কোথায় ঘাটতি ছিল, তা চিহ্নিত করা।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী জানালেন, ‘তাদের পরিচয় গণমাধ্যমের খবরে এসেছে। বিদেশে কোনো বাংলাদেশি অপরাধে জড়ালে সংশ্লিষ্ট দেশের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে অবহিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কনস্যুলার সেবা দেওয়ার সুযোগ থাকে।




