যাত্রী কল্যাণ সমিতি
এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন ১৭ মৃত্যু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
এপ্রিলে দেশের ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৫১০ জনের। এতে প্রতিদিন গড়ে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত আরও ১ হাজার ২৬৮ জন। এই সময়ে রেলপথে ৫৪টি দুর্ঘটনায় ৪৯ জন নিহত, ১১ জন আহত হয়েছে। আর নৌ-পথে পাঁচটি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪ জন। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৫৮৬টি দুর্ঘটনায় ৫৬৩ জন নিহত এবং আহত হয়েছে ১ হাজার ২৭৯ জন।
আজ বুধবার প্রকাশিত বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মাসিক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল বলছে, গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃত হতাহতের ঘটনা আরো বেশ কয়েকগুণ বাড়তে পারে, যা সংবাদপত্রে স্থান না পাওয়ায় তুলে আনা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গত মাসে ১৩৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪২ জন নিহত, আহত হয়েছে ১২৪ জন। যা মোট দুর্ঘটনার ২৬.৩৭ শতাংশ, নিহতের ২৭.৮৪ শতাংশ ও আহতের ৯.৭৭ শতাংশ। এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে, ১৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত ও ২৬৩ জন আহত হয়েছে। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে, ১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৬৪ জন আহত হয়েছে।
সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, পরিবহন খাতের পরিচালনার পদ্ধতি আপদমস্তক সংস্কার জরুরি। আমলাতন্ত্রের পরির্বতে দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞদের নিয়ন্ত্রণে পরিবহন খাত পরিচালনা করা গেলে পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হবে। সেই সঙ্গে মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ নিরসনের পাশাপাশি প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর মিছিল থামানো সক্ষম হবে। তাই নতুন সরকার পুরোনো পরিবহন পরিচালনা পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসা দরকার।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৩৮.৫১ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩১.৪৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২২.৯৬ শতাংশ সংযোগ সড়কে সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫.৬৯ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৭৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৫৬ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ মতে, এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো: দেশের সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা অবাধে চলাচল; জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কবাতি না থাকা, রেলক্রসিংয়ে হঠাৎ বাস উঠে আসা; সড়কে মিডিয়ামে রোড ডিভাইডার না থাকা, অন্ধকারে গাছপালায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি; মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, যানবাহনের নানাবিধ ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা এবং অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রীবহন।




