মাঠপ্রশাসনের প্রশাসনিক কর্তারাও চান পদোন্নতি

ফাইল ছবি
সচিবালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের (পিও) মতো পদোন্নতি এবং সুযোগ-সুবিধা দাবি করেছেন মাঠপ্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের এসব কর্মকর্তা তাদের বেতন দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে উন্নীত চান। এসব দাবির বিষয় জানিয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন সচিবের কাছে আবেদনপত্র দিয়েছে এই কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ মাঠপ্রশাসন প্রশাসনিক কল্যাণ সমিতি (বামাপ্রকস)’। সংগঠনটির সভাপতি এসএম জাহিদুল ইসলামের সই করা ওই আবেদনটি পাঁচ মাস ধরে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই পড়ে রয়েছে মন্ত্রণালয়ে। এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ছে গোটা মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে।
বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তাই কথা বলেছেন। তারা বললেন, বিষয়গুলো নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে দাবি-দাওয়াসংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি এরই মধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতির জন্য পাঠানো হলেও ফেরত এসেছে। কীভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা যায়, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
জনপ্রশাসন সচিবকে দেওয়া আবেদনে পদোন্নতির যৌক্তিকতায় বলা হয়েছে, সরকারের মাঠপ্রশাসনের সামগ্রিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। স্থানীয় সরকার ও জাতীয় নির্বাচন, সিটিজেন চার্টার তৈরি ও বাস্তবায়ন, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নসহ অন্যান্য আপৎকালীন দায়িত্বও পালন করেন। রাষ্ট্রীয় এসব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার পরও পদোন্নতির কোনো সুযোগ বা ব্যবস্থা তাদের জন্য নেই। সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন ধাপে পদোন্নতি পেয়ে থাকেন। ফলে তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রকাশ করে মেধা বিকাশের সুযোগ মেলে। পদোন্নতির পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা বাড়ে। মাঠপ্রশাসনের (বিভাগ/জেলা/উপজেলা কার্যালয়ের) প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ না থাকায় সব ক্ষেত্রে যাচ্ছেন পিছিয়ে।
এতে আরও বলা হয়, প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ফলে সচিবালয় এবং বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত নিম্ন শ্রেণির পদকে উচ্চতর শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, খাদ্য নিয়ন্ত্রক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণি করা হয়েছে। পাশাপাশি সচিবালয়ের প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী, বাজেট পরীক্ষককে দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা করা হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও মাঠপ্রশাসনে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বামাপ্রকসের সভাপতি এসএম জাহিদুল ইসলাম আগামীর সময়কে বললেন, ‘মাঠপ্রশাসনে আমাদের ৮৩১টি পদ আছে। সেখানে অর্ধেকের বেশি পদই খালি। গত বছরের ডিসি সম্মেলনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত মধ্যমেয়াদি পাঁচ নম্বর সিদ্ধান্ত ছিল— জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে নবম গ্রেডের একাধিক পদ সৃজন করা এবং সৃষ্ট পদগুলোয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের উদ্যোগ নিতে হবে। অথচ সেটার কোনো অগ্রগতি আমরা দেখছি না।’ তিনি আরও বললেন, ‘সচিবালয়ে কর্মরত কর্মচারীদের পদোন্নতি দেওয়ায় নন-ক্যাডার সহকারী সচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব ও উপসচিব হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমরা সেক্ষেত্রেও বঞ্চিত। বহু দেনদরবার করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। ২০১৮ ও ২০১৯ সালের ডিসি সম্মেলনের রেজল্যুশনে মাঠপ্রশাসনের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পদ প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এখনো সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।’




