আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী
সিলেটে ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে
- শুধু ওষুধ ছিটিয়ে মশার প্রকোপ স্থায়ীভাবে কমানো সম্ভব নয় পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য
- সিলেট সিটি করপোরেশন সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে মশক নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
প্রশ্ন: আজ বিশ্ব মশা দিবস। বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে মশা একটি বড় উদ্বেগের কারণ। দিবসটি নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী: বাংলাদেশে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়া মশাবাহিত রোগ। ডেঙ্গুতে আমাদের দেশে অনেক প্রাণহানি হলেও মশানিধনে গুরুত্ব দেওয়ায় সিলেটে ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। শুধু দিবস নয়, সবসময়ই মশা নিয়ন্ত্রণে জনগণের সচেতনতা প্রয়োজন। নগরবাসীকে সচেতন করতে আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছি। দিবসটি উপলক্ষে সচেতনতামূলক র্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রশ্ন: মশা নিয়ন্ত্রণে সিসিকের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে বলুন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রম চলছে। বৃষ্টির কারণে মাঝেমধ্যে বিঘ্ন ঘটলেও আমরা তৎপর। বিভাগের নানা প্রান্তের রোগীরা সিসিকের চিকিৎসাকেন্দ্রে আসেন। তাই হাসপাতাল এলাকায় মশকনিধনের মাধ্যমে ডেঙ্গুর সংক্রমণ নগরীতে ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।
প্রশ্ন: মশা নিয়ন্ত্রণে পরিবেশও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সিসিক কী করছে?
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী: সিলেট সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বর্তমানে অনেক গতিশীল। প্রত্যেক নাগরিক যদি নিয়মিত নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখেন এবং ছড়া বা ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা না ফেলেন, তাহলে প্রাকৃতিকভাবেই মশার প্রকোপ অনেকাংশে কমে যাবে। মশা নিয়ন্ত্রণ শুধু সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। নগরবাসীকেও এ কাজে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রশ্ন: জনসচেতনতাও একটি বড় বিষয়। জনসচেতনতা বাড়াতে সিসিকের উদ্যোগ সম্পর্কে কিছু বলুন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী: সিলেট সিটি করপোরেশন প্রয়োজনভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করছে। আমরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেও এ ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছি। মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের এসব কাজে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছি। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের চেষ্টা চালাচ্ছি।
প্রশ্ন: ওষুধ ছিটানো হলেও মশার উপদ্রব কমে না। আপনি কি মনে করেন বর্তমান পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন?
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী: সিলেট সিটি করপোরেশন সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে মশক নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে মশার প্রকোপ স্থায়ীভাবে কমানো সম্ভব নয়। বর্তমান পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনলে আরও ভালো হবে।
প্রশ্ন: মশক নিয়ন্ত্রণে সিসিকের কার্যক্রমের সফলতা কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে? মশার ঘনত্ব কমেছে, এমন কোনো পরিমাপ বা তথ্য কি সিসিকের কাছে আছে?
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী: অবশ্যই। ২০২৫ সালে সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯ হাজার ৮৯০টি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে এডিস মশার লার্ভা সার্চ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে এডিসের লার্ভা শনাক্ত হয়েছিল। চলতি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে মশকনিধন ও এডিস মশার লার্ভা সার্চিং অভিযানে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে লার্ভা অনুসন্ধান এবং ধ্বংস করা হয়েছে। সেখানে লার্ভা শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এডিস মশার ঘনত্ব কিছুটা কমেছে।
প্রশ্ন: আগামী এক বছরে মশক নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকে আপনি কী প্রতিশ্রুতি দিতে চান?
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী: আমাদের লক্ষ্য সিলেট নগরীকে মশামুক্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের নগরী হিসেবে গড়ে তোলা। এজন্য আমরা আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। তবে আমি আবারও বলতে চাই, মশক নিয়ন্ত্রণ শুধু সিটি করপোরেশনের কাজ নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজের বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। আমাদের পক্ষ থেকে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।







