পারসিস্টেন্স শিরোনামের প্রদর্শনী শুরু ভূমি গ্যালারিতে

অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, কবি ও লেখক মাসরুর আরেফিন, চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলামসহ অন্যরা
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, ‘আমি প্রায়ই একটি কথা বলে থাকি—সংস্কৃতিই একটি জাতিকে সংজ্ঞায়িত করে। প্রত্যেকেরই নিজের সংস্কৃতি নিয়ে গর্বিত হওয়া উচিত। আমি আমার মার্কিন সংস্কৃতি নিয়ে গর্বিত। আমি জানি এই গ্যালারির শিল্পীরা এবং আজ রাতে আমরা যে নৃত্যশিল্পীদের পারফরম্যান্স দেখলাম, তারা সবাই বাংলাদেশি সংস্কৃতি নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। কারণ শিল্প, নৃত্য, সংগীত, খাবার, সাহিত্য— এসবের মাধ্যমেই আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে প্রকাশ করি এবং একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিই।’
আজ শনিবার ভূমি গ্যালারির আয়োজনে দেশের ১০ জন শিল্পীর শিল্পকর্ম নিয়ে ‘পারসিসটেন্স’ শীর্ষক দলীয় চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।
রাষ্ট্রদূত বললেন, আজ এখানে প্রদর্শিত শিল্পকর্মগুলোর মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন রূপে বাংলাদেশি সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাচ্ছি। কোনোটি বাস্তবসম্মত, কোনোটি ইম্প্রেশনিস্টিক, আবার কোনোটি পরাবাস্তব বা সুরিয়ালিস্টিক। কিন্তু প্রতিটি কাজই বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতির গল্প বলছে।
ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, শিল্পের আরেকটি দারুণ দিক হলো, এটি বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের একটি চমৎকার মাধ্যম। এখানকার অনেক শিল্পীই বিদেশে— যেমন জাপানে, ইউরোপে অথবা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা ও যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তারা সেখান থেকে নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে এসেছেন। সেই সংস্কৃতিগুলো নিজেদের সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিয়েছেন, যা তাদের শিল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের গল্পকে এক নতুন উপায়ে ফুটিয়ে তুলছে।
স্বাগত বক্তব্যে ভূমি গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুর রহমান লেনিন বলেছেন, বাংলাদেশের শিল্পী সমাজের জন্য ইতিবাচক কিছু করতে ভূমি গ্যালারি শুধু একটা প্রদর্শনী কেন্দ্র নয়। এই গ্যালারি প্রদর্শনীর পাশাপাশি শিশু থেকে শুরু করে নবীন, কিশোর, তরুণ এবং আমাদের প্রবীণ শিল্পী যারা আছে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড করে আসছে। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।
নৃত্যদল বহরের একগুচ্ছ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ভূমি গ্যালারির সেন্টারপয়েন্টে শুরু হয় পারসিস্টেন্স শীর্ষক দলীয় চিত্রপ্রদর্শনী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম, কবি-লেখক ও সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন এবং ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইনুদ্দিন হাসান রশিদ।
অনুষ্ঠানে শিল্পী, শিল্পসমালোচক, শিল্পপ্রেমী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
‘পারসিস্টেন্স’ প্রদর্শনীতে দেশের ১০ জন শিল্পীর ক্যানভাস, মিশ্র মাধ্যম ও জলরঙে আঁকা মোট ৬৬টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন তরুণ ঘোষ, ফরিদা জামান, মোহাম্মদ ইউনুস, জামাল আহমেদ, আহমেদ সামসুদ্দোহা, রোকেয়া সুলতানা, কনকচাঁপা চাকমা, মোহাম্মদ ইকবাল, শহিদ কাজী ও আব্দুল্লাহ আল বশির।
শনিবার থেকে শুরু হয়ে এই প্রদর্শনী চলবে আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এই প্রদর্শনী।





