পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগের দাবি ৩২ বিশিষ্ট নাগরিকের

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগের দাবি ৩২ বিশিষ্ট নাগরিকের। ছবি: সংগৃহীত
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আস্থাভাজন একজন প্রতিনিধিকে অবিলম্বে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ৩২ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাদের দাবি, এ পদে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে সরকারের প্রতি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয় এ আহ্বান।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজন পূর্ণমন্ত্রীর হাতে দেওয়া হয়েছিল। এতে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি তৈরি হয় ইতিবাচক প্রত্যাশা। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ওই অঞ্চল থেকে সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি সম্প্রতি পদত্যাগ করায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ‘বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পাহাড়ি মানুষদের মনে এমন উচ্চ আশাবাদ গড়ে উঠেছিল যে, তাদের প্রতি ঐতিহাসিকভাবে যে অবহেলা এবং বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে, এবার এই সরকারের উদ্যোগ এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে তার অবসান হবে। সেই আশাবাদ এখন অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।’
৩২ বিশিষ্ট নাগরিক আরও উল্লেখ করেন, পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। এতে তাদের স্বতন্ত্র জীবনধারা ও সংস্কৃতি চর্চার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সরকারের সময় দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা কোনো একক রাজনৈতিক দলের কৃতিত্ব নয়।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারে পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর একজন আস্থাভাজন প্রতিনিধিকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ১ জুন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেন।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সুলতানা কামাল, খুশী কবির, আবু সাঈদ খান, ড. ইফতেখারুজ্জামান, জেড আই খান পান্না, সারা হোসেন, ড. শহিদুল আলম, শামসুল হুদা, সুব্রত চৌধুরী, রেহেনুমা আহমেদ, ড. গীতিআরা নাসরিন, ড. জোবাইদা নাসরীন, ড. খায়রুল চৌধুরী, ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা, পাভেল পার্থ, ড. ঈশিতা দস্তিদার, ড. নাসরিন খন্দকার, রোজিনা বেগম, সালমা আলী, কাজল দেবনাথ, মনীন্দ্র কুমার নাথ, সালেহ আহমেদ, পারভেজ হাসেম, জাকির হোসেন, সাইদুর রহমান, রেজাউল করিম চৌধুরী, সাঈদ আহমেদ, শাহেদ কায়েস, দীপায়ন খীসা, মুক্তাশ্রী চাকমা, মেইনথিন প্রমীলা এবং ড. হানা শামস আহমেদ।





