এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত ইইউ

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে মসৃণ ও সফল উত্তরণে একসঙ্গে কাজ করতে চায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনাও যাচাই করতে আগ্রহী তারা।
আজ রবিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এ দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পাশাপাশি দেশটিকে রাজনৈতিক রূপান্তর, জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ু ঝুঁকি এবং জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ কারণে বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার হিসেবে দেখছে ইইউ।
ঢাকায় ইইউর রাষ্ট্রদূত বললেন, ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ (অস্ত্র ছাড়া সব পণ্য) বাণিজ্য সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ইইউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে এখন ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্ককে দাতা ও গ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
এ কূটনীতিক বললেন, ‘আমরা এখন একটি ভিন্ন মাত্রার উচ্চাকাঙ্ক্ষা চিহ্নিত করতে চাইছি। এলডিসি মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের মসৃণ ও সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করা এবং ভবিষ্যতে একটি সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা পরীক্ষা করে দেখা।’
বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের আগেই ইইউর পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়া একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ উল্লেখ করে মাইকেল মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশ যে গতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখাবে, আমরা তার সঙ্গে তাল মেলাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
তবে এ ধরনের চুক্তির জন্য জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, শ্রম অধিকার ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশকে বাহ্যিক, ভূরাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি জলবায়ু, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের চাপ মোকাবিলা করতে হলে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা এবং পূর্বাভাসযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
মাইকেল মিলার বলেন, ‘সাংবিধানিক সংস্কারের যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু হয়েছে, তা সম্পন্ন করতে হবে। এর জন্য রাজনীতিতে আরও বৃহত্তর ঐকমত্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’
এর পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরি, সবুজ প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণ এবং নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।



