‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার পরে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এই পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতি পরিবারের একজন নারীপ্রধানের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সুবিধাভোগীরা মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবেন। ভবিষ্যতে সমমূল্যের খাদ্য সহায়তাও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গেছে, প্রতিটি পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করতে জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। তারা সরেজমিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান ও গৃহস্থালি সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
প্রাথমিকভাবে সারাদেশে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতিতে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি চাকরি, পেনশন বা একাধিক ভাতা গ্রহণের বিষয়গুলো বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারভিত্তিক হওয়ায় এতে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারকে একটি করে আধুনিক ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। স্পর্শবিহীন চিপসংবলিত এই কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী। সাধারণত পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য একটি কার্ড দেওয়া হবে। সদস্যসংখ্যা বেশি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা পেলে তা বাতিল হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রাপ্য সুবিধা অব্যাহত থাকবে।
পাইলট প্রকল্পের জন্য আগামী জুন পর্যন্ত ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে এবং বাকি অর্থ ব্যয় হবে অনলাইন সিস্টেম ও কার্ড প্রস্তুতের কাজে।

