আগামীর সময়

রাত ৮টার পর বন্ধ থাকবে দোকান, আজ থেকেই কার্যকর

রাত ৮টার পর বন্ধ থাকবে দোকান, আজ থেকেই কার্যকর

সংগৃহীত ছবি

রাত ৮টার পর থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দোকান ও শপিংমল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। জ্বালানি সাশ্রয়ে আজ দুপুরে এ সিদ্ধান্ত এসেছে সমিতির সভা থেকে।

বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমান টিপুর ভাষ্য, ‘আজ বৃহস্পতিবার রাত আটটার পর দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।’

ব্যবসায়ী নেতারা জানান, বিদ্যুতের অপচয় কমাতে এবং চলমান সংকট সামাল দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি ছিল। এর ফলে পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে মনে করেন তারা।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে বিশ্বে তীব্র জ্বালানি সংকট। বাংলাদেশেও এটি নিয়েছে মারাত্মক রুপ। ফুয়েল স্টেশনগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

সংকট মোকাবিলায় গুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইনে ক্লাস করার পরিকল্পনা হয়েছে। বাতিল হয়েছে আলোকসজ্জাসহ নানা সরকারি কর্মসূচি। এ সিদ্ধান্তের কারণেই ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং ঈদের আলোকসজ্জা বাতিল হয়েছে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রয়োজনে ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা বাসা থেকে কাজ করার নীতি পুনরায় চালুর বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায়।

এছাড়া সরকারি অফিসগুলোতে এসির তাপমাত্রা নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখা এবং সাইনবোর্ডের আলো বন্ধ রাখার নতুন নির্দেশনা জারি হয়েছে।

২০০৬-০৮ সাল পর্যন্ত দেশে ছিল বিদ্যুতের তীব্র সংকট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে থাকতে হতো সবাইকে। শিল্পোৎপাদন, শিক্ষা, আবাসিকসহ সব খাতে এর ছিল নেতিবাচক প্রভাব।

২০০৯ সালে সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেন নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন সেজন্য তাদের দেওয়া হয় দায়মুক্তি। এজন্য ২০১০ সালে পাস করা হয় 'বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন'। যদিও সেসময় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার।

সেসময় বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন হয়। এছাড়া পায়রা, রামপাল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ নেওয়া হয় বড় বড় প্রকল্প। পাশাপাশি সোলার হোম সিস্টেম, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমদানি করা বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়।

দোকান মালিক সমিতির এ সিদ্ধান্তটি এমন সময় নেওয়া হলো— যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামনের আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ ভয়াবহ যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও সংঘাত বন্ধের কোনো আভাস পাওয়া যায়নি।

    শেয়ার করুন: