চারুকলার বর্ষবরণে শোভাযাত্রায় ফিরছে না ‘মঙ্গল’

ফাইল ছবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদে শুরু হয়েছে বাংলা বর্ষবরণের প্রস্তুতি। ‘মঙ্গল নাকি আনন্দ’ কী নামে গড়াবে শোভাযাত্রা— তা নিয়ে চলছিল আলোচনা। এরমধ্যেই ঢাবি চারুকলার ডিন অধ্যাপক আজহারুল ইসলামের মুখ থেকে এলো ‘মঙ্গল নয়, আনন্দ শোভাযাত্রা নামেই হবে বর্ষবরণ।
বঙ্গাব্দ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী কর্মসূচি নেওয়ার কথা রবিবার তথ্যবিবরণীতে জানায় সরকার, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে ‘বর্ষবরণ শোভাযাত্রা’ করার কথা উল্লেখ আছে। শোভাযাত্রাটির নির্দিষ্ট নাম থাকলেও তথ্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি। সেখান থেকেই মূলত জন্ম দিয়েছে আলোচনার। ‘এ বছর নববর্ষের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
‘নববর্ষ উপলক্ষ্যে আনন্দ শোভাযাত্রা সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হবে। রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি হয়ে শোভাযাত্রাটি পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হবে’—জানিয়েছেন চারুকলার ডিন। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ষবরণ প্রস্তুতি নিয়ে একটি সভা হয়। সেখানে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, জানতে চাইলে অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম জানালেন, এবারের বর্ষবরণে আরো বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক বর্ষবরণ কীভাবে করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শোভাযাত্রায় কী কী মোটিফ থাকবে তা নিয়ে উপকমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হবে।
পহেলা বৈশাখে চারুকলা থেকে প্রথম যে শোভাযাত্রাটি হয়েছিল, তার নাম ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ ছিল। পরে সেটি হয়ে যায় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ । আমরা আগের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখছি—বলছিলেন ডিন। আশির দশকের শেষভাগে পহেলা বৈশাখে চারুকলা থেকে যে শোভাযাত্রা বের হয়েছিল; সেটিই পরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় রূপ নেয়।
২০১৬ সালে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পায় এই কর্মসূচি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালে চারুকলার শোভাযাত্রার নাম থেকে ‘মঙ্গল’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নামকরণ হয় ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্যবাহী ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তন নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মন্তব্য, মঙ্গল ও আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্যে গুণগত কোনো পার্থক্য নেই। মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটা জানালেন মন্ত্রী। মঙ্গল এবং আনন্দ দুই নামকে আলাদা করতে নারাজ তিনি। বলছিলেন, শোভাযাত্রায় যতখানি আনন্দ আছে, একই ধরনের আনন্দ এই ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র মধ্যেও আছে। আনন্দের কোনো পার্থক্য নেই।’ তবে আসন্ন পহেলা বৈশাখে আয়োজনটি ঠিক কোন নামে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর দেননি নিতাই রায় চৌধুরী। ‘কমিটির সব সিদ্ধান্ত তো আমি বলতে পারি না। তবে মন্ত্রী হিসেবে আমি এইটুকু বলতে চাই যে, আমাদের চিরায়ত সংস্কৃতি, ধ্যান-ধারণা ও ভাবনা থেকে আমরা ধারণ করতে চাই’—যোগ করেন তিনি।
দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। সেখানে যথাযোগ্য মর্যাদায়, চিরায়ত ধারায় পহেলা বৈশাখ পালন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার পরিবর্তে আনন্দ শোভাযাত্রা নাম দেয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার ধন্যবাদ জানিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী। তবে তিনি মনে করেন— এই নাম বদলের কোনো প্রয়োজন ছিল না।

