স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
দক্ষ ড্রাইভার ও মালী নিতে চায় আমিরাত, যৌথ প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রস্তাব

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ড্রাইভার ও মালী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের জনবল গড়ে তুলতে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে ছয় মাস মেয়াদি ড্রাইভার প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। মানবপাচার প্রতিরোধ, দক্ষ জনবল রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আইনগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার সময় এ বিষয়ে মতবিনিময় করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী খাসিফ আল-হামুদী।
আজ শনিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে আমিরাতের রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে তার দেশে দক্ষ ড্রাইভার ও মালীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত জনবল নিতে দেশটি আগ্রহী। বিশেষ করে ড্রাইভার নিয়োগের ক্ষেত্রে ছয় মাসের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ও আমিরাত যৌথভাবে দেশে আন্তর্জাতিক মানের ছয় মাস মেয়াদি ড্রাইভার প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করতে পারে। প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের দক্ষ চালক হিসেবে আমিরাতে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে গালফভুক্ত দেশগুলোর জন্য অভিন্ন ড্রাইভার প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলেও রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন তিনি।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, মানবপাচার প্রতিরোধ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তারা দুই দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। আমিরাতের বিভিন্ন শীর্ষ কোম্পানি বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তাসহ তথ্যপ্রযুক্তি ও উদীয়মান খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগে আগ্রহী।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’
মানবপাচার প্রতিরোধে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘শুধু মানবপাচার নয়, সব ধরনের ফৌজদারি অপরাধ মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে একটি ব্যাপকভিত্তিক ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ স্বাক্ষর হতে পারে।’
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। এ সময় রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব রেবেকা খান ও উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন উপস্থিত ছিলেন।






