‘জাতীয় শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স’ চান ডেপুটি স্পিকার

ছবি: আগামীর সময়
দেশে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতন মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেছেন, ‘শিশু নির্যাতন একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি, যা শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং রাষ্ট্রের সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
আজ শনিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি। বৈঠকের আয়োজন করে ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্যসহায়তা সেল’।
বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার বলছিলেন, ‘শিশু নির্যাতনের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে বিদ্যমান আইন, নীতি ও সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিগুলো মূল্যায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ও টেকসই কৌশল প্রণয়ন আবশ্যক।’ তার মতে, শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে শিশু রামিসা হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে উল্লেখ করেন কায়সার কামাল। তিনি জানালেন, বর্তমানে শিশুদের প্রতি শারীরিক, মানসিক এবং অনলাইনভিত্তিক নির্যাতনের ঝুঁকি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার, প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, ‘নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের আইনি, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক এবং নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্যসহায়তা সেলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন— সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, ওরাকলের কান্ট্রি ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ডা. তৌহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. তাহমিনা আকতার, কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ, ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজা বেগম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টের মহাসচিব ডা. মো. নিজাম উদ্দিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরীন আই খান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেসুর রহমান, ঢাবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা, অধ্যাপক ডা. সাকলায়েন রাসেল, সাংবাদিক মো. মাহতাব উদ্দিন প্রমুখ।




