আগামীর সময়

আপাতত দেশেই থাকছেন ড. ইউনূস

নিচ্ছেন যমুনা ছাড়ার প্রস্তুতি
আপাতত দেশেই থাকছেন ড. ইউনূস

ফাইল ছবি

আপাতত দেশেই থাকবেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় অবস্থান। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখনো আছেন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতেই। গুলশানের বাসভবনে যেতে বাক্স-পেটরার ঝাঁপি ফেলছেন। ড. ইউনূসের ‘কাছের কয়েকজন’ জানিয়েছেন এমনটাই। তারা আরও জানান, ড. ইউনূসের স্ত্রী অসুস্থ। তিনি নিজে অসুস্থ স্ত্রীর দেখাশোনা তদারকি করেন।

গত মঙ্গলবার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, যা ছিল তার সবশেষ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান। যমুনায় ফিরে বসেছিলেন প্রেস উইং ও পারসোনাল উইং সংশ্লিষ্টদের সাথে। ঘরোয়া সেই আলোচনার মধ্যেই জানতে চান পরদিন অর্থাৎ বুধবার কোনো কর্মসূচি আছে কিনা। ‘অনেকে দেখা করতে চাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের দুর্বোধ্য প্রাচীর ডিঙাতে না পারায় তারা এতদিন আপনার দেখা পাননি।’ প্রটোকল অফিসার জানান নোবেল বিজয়ীকে।

গতকাল বুধবার সারাদিন যমুনায় ছিলেন। আজও তার যমুনাতেই থাকার কথা। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার আগেও ড. ইউনূস দেশেই বেশি থাকতেন। এখনো তিনি দেশেই থাকবেন। তিনি গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রামীণ হেলথ নিয়ে বেশি সময় দেবেন। এছাড়া তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের দিনগুলো নিয়ে লেখবেন বলে আগেই জানিয়েছেন।

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম আগামীর সময়কে জানান, ‘ড. ইউনূস দেশেই ছিলেন, দেশেই থাকবেন। আগামী মাসের তৃতীয় সপ্তাহে জাপান সফরের কথা রয়েছে।’

জাপানের বিখ্যাত ‘সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন’-এর আমন্ত্রণে এ সফরে যাবেন। মূলত সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা তার। ফাউন্ডেশনটির কাজ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করা। বিশেষ করে সমুদ্র বিষয়ক গবেষণায় তাদের বিশেষ খ্যাতি। সমুদ্র সম্পদ ও ব্লু-ইকোনমি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করবেন।

এর আগে গত ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকি আবে। এনকারেজমেন্ট অব সোশ্যাল কন্ট্রিবিউশন (সামাজিক অবদান উৎসাহিতকরণ) ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি তখন বাংলাদেশ সফর করেছেন। সরকার থেকে বিদায়ের পর কী করবেন— এমন এক প্রশ্নের জবাবে ওই প্রতিনিধি দলকেও ড. ইউনূস জানিয়েছিলেন, দেশের হেলথ কেয়ার নিয়ে কাজ করবেন।

পরদিন ১২ জানুয়ারি ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারও সাংবাদিকদের দেশের হেলথ কেয়ার নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছিলেন।

এনকারেজমেন্ট অব সোশ্যাল কন্ট্রিবিউশন ফাউন্ডেশনের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তার নির্বাচন-পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে উপ-প্রেস সচিব বলেছিলেন, প্রধান উপদেষ্টা তিনটি বিশেষ ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার কথা জানান। তিনি ডিজিটাল হেলথ কেয়ারে কাজ করবেন, যাতে আমাদের দেশের নারী বা ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর সহায়তা বাড়ে, পাশাপাশি প্রবাসীরাও যাতে ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে তাদের পরিবারের খোঁজ রাখতে পারেন। এ ছাড়া তিনি তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির এবং তিন শূন্য তত্ত্ব নিয়ে কাজ করবেন।

    শেয়ার করুন: