জাসদ অফিসে অভিযানে গ্রেপ্তার ২৭ জন কারাগারে, উদ্বেগ আসকের

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর গুলিস্তানে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার ২৭ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল রবিবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ‘অশ্লীল ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টির’ অভিযোগে গত শনিবার ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. দিদারুল আলম ভূঁইয়া, ইমাম আহমেদ ইমন, মো. শাহজাহান সিরাজ, জয় সরকার, মো. রিয়াজ আহমেদ, মো. মিরাজ মাহিম, মো. রফিউল ইসলাম, মিলন কুমার মণ্ডল, মো. কাউসার হোসেন, অজন শিল, জালাল উদ্দিন মণ্ডল, আব্দুল লতিফ, শামীম আহমেদ, আহম্মদ আলী হাবিব, মো. সুজন আলী, মো. তসিরুল ইসলাম, মো. সাইফুল্লাহ সাদেক, নবল আলী, সাজিবুল ইসলাম তুহিন, তাজুল ইসলাম, নিসার সুলতান হোসেন তালুকদার, আনোয়ার হোসেন, মো. আলমগীর হোসেন, মো. আল আমিন হাওলাদার, মো. ফয়সাল আলী, মো. রাশিদুল হক ও মীর মুক্তিসূর রহমান।
গতকাল তাদের আদালতে হাজির করে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করেন পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. নাজমুল ইসলাম। ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, গত শনিবার আসামিরা বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে অশ্লীল ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেন। পরে তাদের আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়ার ব্যাপারে তারা সদুত্তর দিতে পারেননি। তারা কোনো ধর্তব্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।
আসকের নিন্দা: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিনিধি সভা চলাকালে হামলা, মব সৃষ্টি ও রাজনৈতিক কর্মীদের লাঞ্ছিত এবং ২৮৯ জনকে আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। গতকাল এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানায় মানবাধিকার সংগঠনটি।
আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত সভা চলাকালে মব সৃষ্টি করে তা ভণ্ডুল করা এবং পুলিশের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক কর্মীদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে যুবদলের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের মব সৃষ্টি ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে দেখা যাওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক।’
আসক এ ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেছে, ‘ভিডিও ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে হামলা, উসকানি, সহিংসতা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়-নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনতে হবে।’



