সন্তানদের নামে ২ ইউনিয়নের নাম, প্রতিমন্ত্রী বললেন ‘অলৌকিক মিল’

সংসদে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি : সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নির্বাচনী এলাকায় সীমান্ত এবং দিগন্ত নামে দুটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদ হয়েছে। নবগঠিত ইউনিয়ন দুটির নামের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামের মিল থাকায় এ নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা।
জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর বড় ছেলের নাম মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং ছোট ছেলের নাম মীর সাকলাইন আলম দিগন্ত।
আজ সোমবার সংসদ অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামে দুটি ইউনিয়নের নামকরণ করার বিষয়ে জানতে চায় বিরোধীদল। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘অলৌকিকভাবে ছেলেদের নামের সঙ্গে মিলে গেছে দুই ইউনিয়নের নাম।’
মীর শাহে আলম বগুড়া-২ আসনের এমপি। এই নির্বাচনী এলাকার শিবগঞ্জ উপজেলা ভেঙে গত মাসে পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে মোকাতলা নামে পৃথক উপজেলা হয়।
গত ১১ জুন এই উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙে সীমান্ত নামে নতুন ইউনিয়ন হয়। দেউলী ইউনিয়ন ভেঙে হয়েছে দিগন্ত ইউনিয়ন। ময়দানহাট্টা, শিবগঞ্জ (আংশিক) এবং মোকামতলা ইউনিয়নের অংশ বিশেষ নিয়ে হয় স্বর্ণগ্রাম নামে আরেকটি ইউনিয়ন। মোকামতলা ইউনিয়নের অবশিষ্ট অংশ নিয়ে হচ্ছে পৌরসভা।
গত রবিবার বগুড়ার জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরে এই সংক্রান্ত গেজেট জারি হয়। গেজেট অনুযায়ী, শিবগঞ্জ উপজেলায় মীরবাড়ি নামে নতুন আরেকটি ইউনিয়ন হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর পৈত্রিক বাড়ির নাম ‘মীরবাড়ী’।
ইউনিয়ন পরিষদ আইন-২০০৯ এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী, কয়েকটি গ্রাম বা সংলগ্ন মৌজা বা গ্রামের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্ড এবং ৯টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে একটি ইউনিয়ন ঘোষণা করতে পারেন জেলা প্রশাসক। নবগঠিত ইউনিয়নের নাম ঠিক করবেন জেলা প্রশাসক। তবে কোনো ব্যক্তির নামে ইউনিয়নের নামকরণ করা যাবে না।
আইনে এই বিধান থাকার পরও কীভাবে প্রতিমন্ত্রীর সন্তানদের নামে ইউনিয়ন পরিষদ হয়েছে— বিষয়টি সংসদে জানতে চান জামায়াতের এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
তিনি বলেছেন, ‘মীর শাহে আলমের এলাকায় একটি ইউনিয়নের নাম তার মীরবংশের নামে করেছেন। তার দুই সন্তান দিগন্ত ও সীমান্তের নামে দুটি ইউনিয়ন হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী নাকচ করেছেন। আমরা বাহবা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী যা চান সেটাই মন্ত্রীদের চাওয়ার কথা। বিগত ফ্যাসিস্ট সময়ের নাম সংশোধন করতে অনেক সময় গিয়েছিল। এখন একই সংস্কৃতি ফিরছে।’
বিরতির পর প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমকে কৈফিয়ত দেওয়ার সুযোগ দিতে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি অনুরোধ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে। এ পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন স্পিকার। শাহে আলম দাবি করেন, তার ছেলেদের নামে নয়, স্থানীয়ভাবে প্রশাসনিক যাচাইবাছাই এবং গণশুনানি করে এলাকার নামে নবগঠিত ইউনিয়ন দুটির নামকরণ করেছেন জেলা প্রশাসক।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘নতুন মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদ আয়তনে অনেক বড়। এই ইউনিয়ন ভেঙে সীমান্ত নামে ইউনিয়ন হয়েছে। কারণ গাবতলী এবং সোনাতলা উপজেলার ইউনিয়নটি সীমান্তবর্তী। আরেকটি ইউনিয়নের নাম ছিল দেউলী। তা গাইবান্ধা জেলার সীমান্তবর্তী। দূরবর্তী হওয়ায় নাম দেওয়া হয়েছে দিগন্ত। যদিও দেউলী ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন নয়, ইউনিয়নটি ভেঙে দিগন্ত নামে ইউনিয়ন করা হয়েছে।’
নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ১২টি প্রতিষ্ঠানের মালিক। এর একটি মীর সীমান্ত ফিলিং স্টেশন, আরেকটি মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি।
সংসদে কৈফিয়তে দেওয়ার সময় প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, ‘অলৌকিকভাবে সন্তানদের নামের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের নাম মিলে গেছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের সন্তানের নাম হচ্ছে মীর সীমান্ত, মীর দিগন্ত। আমার যদি ইচ্ছা থাকত, তাহলে জেলা প্রশাসককে বলতাম ‘নাম রাখেন মীর সীমান্ত, না হলে মীর দিগন্ত’। কিন্তু নামের আগে তো মীর নেই।’
সরকারি দলের এমপিরা এ সময় টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান প্রতিমন্ত্রীকে।
মীর শাহে আলম তখন বলেছেন, ‘আল্লাহ বাঁচাইছে যে মাননীয় সংসদ সদস্য বলেননি, বিজিবির সীমান্ত ব্যাংক লিমিটেড আমার ব্যাংক। তিনি দয়া করে বলেননি, খুলনা থেকে পার্বতীপুরে যে ট্রেন যায় সীমান্ত এক্সপ্রেস, সেটিও আমার ট্রেন। তিনি দয়া করে বলেননি গুলশান ১-এ যে দিগন্ত টাওয়ার রয়েছে, সেটিও আমার।’
তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিগন্ত এবং সীমান্ত নামের এলাকা স্থাপনার তালিকা তুলে ধরেন সংসদে।
গেজেট অনুযায়ী, সৈয়দপুর ইউনিয়নের ১১টি মৌজা নিয়ে গঠিত সীমান্ত ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৬ হাজার ২৬৭ জন। দেউলী ইউনিয়নে ৮টি মৌজা নিয়ে গঠিত দিগন্ত ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৭ হাজার ৭৫৯ জন।






