ফিরতি পথে স্বস্তি, অফিস শুরু আজ
- মহাসড়কগুলোয় নেই যানজট, দীর্ঘ ভোগান্তিও
- যথাসময়ে টার্মিনালে পৌঁছাচ্ছে দূরপাল্লার বাস

ঈদ উদযাপন শেষে পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। ছবিটি গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশনের - মহুবার রহমান
আনন্দ, উৎসব আর নাড়ির টান— সব ফুরিয়ে আবার চেনা জীবনের ব্যস্ততায় ফেরার পালা। পরিবার ও আপনজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে আবারও কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষেরা। নাড়ির টানে বাড়ির পথে যাওয়ার সময় যে দুর্ভোগ আর ভোগান্তির চিত্র দেখা গিয়েছিল, ফিরতি পথের যাত্রায় তার উল্টো পিঠ দেখা যাচ্ছে। স্বস্তির আর নির্বিঘ্ন যাত্রায় ঢাকা ফিরছেন মানুষ। আর টানা সাত দিনের লম্বা ছুটি শেষে আজ সোমবার থেকে আবারও পুরোদমে চালু হচ্ছে সব সরকারি, আধা সরকারি এবং বেসরকারি দপ্তর।
সাধারণত ঈদ শেষে ঢাকা ফেরার পথে তীব্র যানজটের যে আশঙ্কা থাকে, এবার মহাসড়কগুলোয় তা দেখা যায়নি। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ দেশের বড় সড়কগুলোয় যান চলাচল ছিল তুলনামূলক স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক। কোথাও বড় কোনো জটলা বা দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি ছাড়াই দূরপাল্লার বাসগুলো যথাসময়ে সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী টার্মিনালে এসে পৌঁছাচ্ছে। ফিরতি যাত্রায় সড়কের এই স্বস্তিতে খুশি যাত্রীরাও।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বললেন, ‘যাওয়ার সময় সবার লক্ষ্য একই থাকে। সবাই একটা নির্দিষ্ট সময় যেতে চায়। তাই চাপ বেশি থাকে। কিন্তু ফেরার সময় একেক কর্মের মানুষ একেক সময় ফেরে। তাই অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয় না।’
সড়কের পাশাপাশি রেল ও নৌপথেও যাত্রীদের ঢাকা ফেরার অভিজ্ঞতা মোটামুটি ভালো ছিল। যাত্রীদের মধ্যে টিকিট না পাওয়ার হতাশা ছিল। কিন্তু ট্রেনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বড় ধরনের কোনো সূচি বিপর্যয়ের ঘটনাও ঘটেনি। আর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও ছিল সুশৃঙ্খল পরিবেশ। দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে আসা লঞ্চগুলোয় যাত্রীচাপ থাকলেও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলা লক্ষ করা যায়নি।
টানা বন্ধের পর আবারও চিরচেনা রূপে ফিরছে সচিবালয়সহ মতিঝিল, দিলকুশা ও কারওয়ান বাজারের বাণিজ্যিক এলাকাগুলো। আজ থেকে ব্যাংকিং ও বীমা কার্যক্রম পুরোদমে চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের সমাগম বাড়তে শুরু করবে অফিসগুলোয়। সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের কোলাকুলি আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়েই হয়তো শুরু হবে প্রথম দিনের কর্মব্যস্ততা। তবে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুললেও সুপ্রিম কোর্ট এখনই খুলছে না। আরও কিছুদিন ছুটি শেষে খুলবে উচ্চ আদালত।






