নুহাশ হুমায়ূন
বাবাকে পরিবারের সদস্য মনে করেন পাঠক-দর্শক

ছবি: আগামীর সময়
একজন সৃজনশীল মানুষকে কতটা পরিশ্রমী ও সিরিয়াস হতে হয়, তা খুব অল্প বয়সেই বাবাকে দেখে বুঝেছেন নুহাশ হুমায়ূন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা
মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হুমায়ূনের পুত্র নুহাশ বলেছেন, ‘এখানে আসার আগে একজনের সঙ্গে দেখা হলো, যিনি পঞ্চমবারের মতো ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রটি দেখেছেন এবং বিষয়টি আমার সঙ্গে শেয়ার করেছেন। এতে প্রমাণ হয়, মানুষ বাবাকে পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে।’
সিনেমা প্রদর্শনী, গান এবং হুমায়ূন আহমদের কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনার মধ্য দিয়ে সাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘মনীষীদের স্মরণমালা’ অনুষ্ঠানমালার শেষ আয়োজন ছিল ‘হুমায়ূন স্মরণ’। এতে অংশ নিয়ে নুহাশ হুমায়ূন বলেন, ‘বাবার জন্মদিন বা মৃত্যুবার্ষিকী ছাড়াও তাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এটি আমাকে ভীষণ আনন্দ দিয়েছে।’
‘হুমায়ূন আহমেদ: নির্মাণশৈলী ও শিল্পদর্শন’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন চলচ্চিত্র গবেষক শাহাদৎ রুমন। তিনি বললেন, ‘মধ্যবিত্ত পরিবারের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। মানুষের ভেতরের গল্পগুলো তিনি তুলে ধরেছেন।’
চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিক্ষক মতিন রহমান বললেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টি নির্মাণশৈলী ও সংলাপ সৃষ্টিতে স্বতন্ত্র। তার সবকিছুই ছিল জীবন্ত; তিনি সিনেমায় অপ্রয়োজনীয় কিছু যোগ করতেন না। হুমায়ূন আহমেদ সব সময় সাহিত্য ও সিনেমায় মানুষের কথা বলেছেন, যা একজন প্রকৃত শিল্পীর কাজ। একই সঙ্গে তিনি তার সৃষ্টিতে লোকজ সংস্কৃতি ও লোকায়ত জীবনকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন।’
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেছেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একজন রসিক মানুষ। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, সৃজনশীলতা দিয়েও আয় করা যায়। অর্থাৎ, তিনি সৃজনশীল অর্থনীতির একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছিলেন।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মিজানুর রহমান।
এর আগে বিকেল ৪টায় ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। পরে শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা হুমায়ূন আহমেদের বিভিন্ন চলচ্চিত্রের গান পরিবেশন করেন। শিল্পীরা পরিবেশন করেন— ‘যদি মন কাঁদে’, ‘কে আইসা দাঁড়াইছে গো’, ‘আমার ভাঙা ঘরে’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ’, ‘বরষার প্রথম দিনে’, ‘আমার আছে জল’, ‘দুঃখটুকু দিলাম ছুটি’, ‘মানুষের ভিতরে মানুষ করিতেছে বিরাজন’ এবং ‘মরিলে কান্দিস না আমার দায়’।
অনুষ্ঠানে হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ এবং তাঁকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘হুমায়ূন সাগরে কিছুক্ষণ’ প্রদর্শন করা হয়।




