বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন
‘উগ্রতা-সাম্প্রদায়িকতা মোকাবিলায় রবীন্দ্রনাথ আশ্রয়’

ছবি: আগামীর সময়
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘রবীন্দ্রনাথ ও আজকের বাংলাদেশ' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অনুষ্ঠান বিভাগ। আজ শুক্রবার বাংলামোটর কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লেখক, পাঠক, শ্রোতা এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বিভিন্ন কর্মসূচির শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রবন্ধ পাঠ করেন গবেষক রাজীব সরকার। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক ড. নীলিমা তাবাসসুম এবং লেখক ও গবেষক খন্দকার স্বনন শাহরিয়ার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যুগ্মপরিচালক মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ সুমন।
রবীন্দ্রনাথের সৃজনশীল ও মননশীল প্রতিভার উদাহরণ তুলে ধরে রাজীব সরকার বলেন, ‘বিশ্বের মহত্তম শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় ও পরবর্তীকালে বিরূপ সমালোচকের অভাব হয়নি। আজকের বাংলাদেশেও তার বিরুদ্ধে কুৎসা ও বিদ্বেষ চলমান। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের অতুলনীয় প্রতিভার কাছে বরাবরই এসব ষড়যন্ত্র পরাজিত হয়েছে। বাঙালিত্ব, স্বদেশপ্রেম ও বিশ্বমানবতার অনন্য ধারক রবীন্দ্রনাথ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে অসাধারণ প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন।’
রাজীব সরকার প্রবন্ধে যেমন তুলে ধরেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য, তেমনই ব্যক্ত করেছেন বিশ্বকবির সমাজ, রাষ্ট্র ও ধর্মবিষয়ক মননশীল ও সৃজনশীল ভাবনা, যা বর্তমান বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য চিন্তাউদ্দীপক ও নৈতিকতার দিকনির্দেশনাস্বরূপ কাজ করতে পারে।
আজকের বাংলাদেশে অমানবিকতা, উগ্রতা, সাম্প্রদায়িকতা ও শোষণসহ যেকোনো সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ পরম আশ্রয় বলে রাজীব সরকার তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন।
‘রবীন্দ্রনাথ ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনায় ড. নীলিমা তাবাসসুম বলেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের অর্জিত কবি। পূর্ব বাংলার, অর্থাৎ, বাংলাদেশের মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে, তা হোক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, কিংবা সাহিত্যিক, রবীন্দ্রনাথকে আমরা নিজেদের মতো করে অর্জন করেছি। বারবার ডেকে এনেছি আমাদের জীবনের, সাহিত্যের, সংস্কৃতির এবং ইতিহাসের অংশ হিসেবে।’
খন্দকার স্বনন শাহরিয়ার বলেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথকে দূরে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে, মননের সঙ্গে, চেতনার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ নিবিড়ভাবে জড়িত। যারাই তাকে বিতাড়িত করার, তাকে দূরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তারাই যুগে যুগে সাম্প্রদায়িকতা, সংকীর্ণতা, উগ্রবাদী চেতনার বীজ বপন করেছে।’
আলোচনা পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর সৃষ্টিকে স্মরণ করে একক ও দ্বৈত কবিতা আবৃত্তি এবং রবীন্দ্র সঙ্গীত উপস্থাপন করেন শিল্পীরা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মোস্তাফিজুর রহমান তূর্য, সেঁজুতি বড়ুয়া এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আবৃত্তিসংঘের শিল্পী সফিকুল ইসলাম সোহাগ, নীলা হাসান, ইসরাত জাহান মেরিন ও হাসান সালেহ্ জয়। বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন শিল্পী রবীন্দ্রনাথ পাল, মামুন, এবং দীপঙ্কর সরকার।




