নাট্যজন আতাউর রহমান আর নেই

সংগৃহীত ছবি
টানা ১০ দিন ছিলেন লাইফ সাপোর্টে। উৎকন্ঠায় ছিল সবাই। শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে গেলেন আতাউর রহমান।
মঙ্গলবার রাত একটার দিকে মারা গেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮৪ বছর। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন আতাউর রহমানের মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান।
পরিবার বলছে, বাদ জোহর জানাযার পর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ নেওয়া হবে শহীদ মিনারে। পরে বনানী কবরস্থানে স্ত্রীর কবরে দাফন করা হবে এই নাট্যব্যক্তিত্বকে।
এর আগে, গত ১ মে বাসায় পড়ে যাওয়ার পর অবনতি হয় আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার। প্রথমে তাকে নেওয়া হয় গুলশানের একটি হাসপাতালে। পরে আইসিইউ সুবিধার প্রয়োজনে ভর্তি করা হয় ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে। শনিবার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে খুলে দেওয়া হয় লাইফ সাপোর্ট। তবে আবার অবস্থার অবনতি হলে রবিবার পুনরায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। তবে মঙ্গলবার রাত একটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।
১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে আতাউর রহমানের জন্ম। দেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত ছিলেন তিনি। নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও পরিচিত এ নাট্যব্যক্তিত্ব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকাবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তরের পর যুক্ত হন নাট্যচর্চায়। ১৯৭২ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটক দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন নির্দেশক হিসেবে। তার নির্দেশিত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘গডোর প্রতীক্ষায়’, ‘গ্যালিলিও’, ‘রক্তকরবী’, ‘এখন দুঃসময়’, ‘অপেক্ষমাণ’, ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘ম্যাকবেথ’ ও ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’।
মঞ্চনির্দেশনার পাশাপাশি লেখক, শিক্ষক ও অভিনেতা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘প্রজাপতি নিবন্ধ’, ‘মঞ্চসারথির কাব্যকথা’, ‘নাটক করতে হলে’ এবং ‘নাট্যপ্রবন্ধ বিচিত্রা’।
ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ শাখা এবং পরে বিশ্বশাখার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন আতাউর রহমান। এছাড়া বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক লাভ করেছেন তিনি।
তার মৃত্যু বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা।




