‘রিনা প্লুং’ নাটকে ম্রো জনগোষ্ঠীর লোকগাথা

মঞ্চায়িত হচ্ছে 'রিনা প্লুং'
ঢাকায় মঞ্চায়িত হলো বান্দরবানের ইয়াং বংহুং থিয়েটার প্রযোজিত নাটক ‘রিনা প্লুং’। শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত নতুন নাটকের উৎসবে শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে প্রদর্শনী হয় নাটকটির। নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন ঝিমিত ঝিমিত চাকমা। সংলাপ, কস্টিউম ও প্রপস ডিজাইনের দায়িত্বে ছিলেন সিং ইয়ং ম্রো।
‘নতুন নাটক, নতুন সময়- মঞ্চে জাগুক মানুষের কথা’ প্রতিপাদ্যে আট দিনব্যাপী এই উৎসব শুরু হয়েছে শুক্রবার, যা চলবে ১৯ জুন পর্যন্ত।
‘রিনা প্লুং’ নাটকের কাহিনিতে উঠে এসেছে ম্রো জনগোষ্ঠীর একটি লোকগাথা। সুদূর অতীতে কলেরা মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে একটি ম্রো গ্রামের প্রায় সব মানুষ মারা যায়। তবে মৃত্যুর পরও অলৌকিকভাবে বেঁচে ওঠে এক ম্রো বাঁশিবাদক। জেগে ওঠার পর সে কথা বলতে পারে না, কানে শুনতেও পায় না। শুধু একটি রহস্যময় সুর তার কানে বাজতে থাকে। নানা চিকিৎসা ও তাবিজ-কবচেও সমস্যার সমাধান হয় না তার। পরে সে সেই সুরকে ধারণ করার জন্য একের পর এক ‘প্লুং’ বা বাঁশি তৈরি করতে থাকে।
অবশেষে স্বপ্নে দেখা এক বিশেষ বাঁশির আদলে তৈরি করা বাদ্যযন্ত্রে সে সেই সুরকে বন্দি করতে সক্ষম হয়। তখন তার বাকশক্তি ও শ্রবণশক্তি ফিরে আসে। সেই সূত্রেই ম্রো জনগোষ্ঠী লাভ করে এমন এক বাঁশি, যার মাধ্যমে গান সৃষ্টি করা সম্ভব। এই লোককাহিনিকেই নাট্যরূপ দেওয়া হয়েছে ‘রিনা প্লুং’-এ।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিংরাও ম্রো, মেনসিং ম্রো, লাক্ ম্রো, লেংরিং ম্রো, মেনদন ম্রো, মেনওয়াই ম্রো, মাংরুম ম্রো, পাওসাই ম্রো, তুমরিং ম্রো, পাওসুম ম্রো, পাইয়েন ম্রো, তুময়েন ম্রো, চাম ক্ ম্রো, তুমদি ম্রো, রুম নাম ম্রো, পাইয়েন ম্রো-২ এবং খিংরুং ম্রো।
নাটক মঞ্চায়নের আগে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলের লবিতে উৎসব উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলা নাটকের গান’। এতে অংশগ্রহণ করে ‘পদাতিক নাট্যসংসদ (টিএসসি)।’
উৎসবের তৃতীয় দিনে রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় একই মঞ্চে প্রদর্শিত হবে দৃশ্যকাব্যের নাটক ‘ইডিপাস’। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন হাবিব মাসুদ। এদিনও সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত লবিতে অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলা নাটকের গান’, যেখানে অংশ নেবে ‘ভৈরবী গীতরঙ্গ দল’।
উৎসবের বিশেষ আয়োজন হিসেবে ‘উদীয়মান নাট্যনির্দেশকদের জন্য বিশেষ কর্মশালা’র আয়োজন করা হয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী এ কর্মশালা আগামী ১৫ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত জাতীয় নাট্যশালার ইন্টারন্যাশনাল ডিজিটাল কালচারাল আর্কাইভ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।



