শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার প্রদান ও রচনাবলির প্রকাশনা উৎসব

ছবি: আগামীর সময়
দ্বিতীয়বারের মতো প্রদান করা হয়েছে ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’। বহুমাত্রিক লেখক অধ্যাপক শান্তনু কায়সারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং তার সাহিত্যচিন্তা ও সৃষ্টিশীল উত্তরাধিকারকে ধারণ করার লক্ষ্যে ঐতিহ্য ও শান্তনু কায়সার স্মৃতি পাঠাগার ও চর্চা কেন্দ্র এই পুরস্কার প্রবর্তন করেছে।
আজ মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে পুরস্কার প্রদান ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। একই অনুষ্ঠানে ঐতিহ্য প্রকাশিত ১০ খণ্ডের ‘শান্তনু কায়সার-রচনাবলি’র মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর। আকস্মিক অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে না পারায় অনুষ্ঠানে শান্তনু কায়সার সম্পর্কে তার ভিডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়। বক্তব্যে তিনি তার কৃতী ছাত্র শান্তনু কায়সারকে একজন মানবিক ও অঙ্গীকারাবদ্ধ লেখক হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রকাশকের বক্তব্যে ঐতিহ্যের প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান নাইম বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, পঁচিশ বছর আগে ঐতিহ্যের প্রকাশনা শুরুর কালে যে লেখকের দুটি বই ‘বাংলা কথাসাহিত্য : ভিন্ন মাত্রা’ এবং ‘ছোট্ট বন্ধুরা’ প্রকাশ করেছিলাম, আজ তাঁর সমুদয় রচনা ঐতিহ্যের মাধ্যমে পাঠকের কাছে পৌঁছে যাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ঐতিহ্য শুরু থেকে সাহিত্যের তরুণ-প্রতিভাবান কণ্ঠস্বরকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের এখন প্রতিষ্ঠিত ৯০ ও শূন্য দশকের বহু তরুণ কবি ও লেখকের প্রথম বই প্রকাশের সঙ্গে ঐতিহ্যের নামটি জড়িয়ে আছে। ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’ এমনই একটি তারুণ্যবান্ধব উদ্যোগ।’
অনুষ্ঠানে শান্তনু কায়সারের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন নাট্যনির্দেশক ফয়েজ জহির। তিনি বলেন, ‘শান্তনু কায়সার নাটকের মানুষ, সাহিত্যের মানুষ, সুষম সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্নের মানুষ। তার রচনাবলি প্রকাশ করে ঐতিহ্য এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে।’
‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’-এর বিজয়ী তিনটি গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক পাপড়ি রহমান। পুরস্কারপ্রাপ্ত গ্রন্থ তিনটি হলো কবি হেমায়েত উল্লাহ ইমনের কবিতাগ্রন্থ ‘ফেনাফুল’, জুবায়ের রশীদের ডকুফিকশন ‘গালিবের মুশায়েরায়’ এবং নাট্যকার শরণ এহসানের নাটক ‘পুরনামা’।
পাপড়ি রহমান বলেন, ‘এবারের পুরস্কারবিজয়ী তিনটি বই-ই মানসম্পন্ন। আমাদের তরুণদের স্বপ্নকল্পনা ও বাস্তবিক-বোধের জগৎ কতটা বিস্তৃত ও গভীরতাময় ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার পুরস্কার ২০২৫ বিজয়ী পাণ্ডুলিপিগুলো এর বলিষ্ঠ উদাহরণ।’
অনুষ্ঠানে পুরস্কারবিজয়ী লেখকদের ৫০ হাজার টাকার চেক, ক্রেস্ট ও প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়। তাদের পুরস্কারবিজয়ী পাণ্ডুলিপিগুলো এর আগে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ ঐতিহ্য থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ১০ খণ্ডের ‘শান্তনু কায়সার-রচনাবলি’র সম্পাদক ও শান্তনু কায়সারের কনিষ্ঠ পুত্র রাসেল রায়হান ঐতিহ্যকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’ এ দেশের তরুণ লেখকদের মাঝে সাড়া জাগিয়েছে দেখে আমরা আনন্দিত।’
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোহীত উল আলম বলেন, ‘শান্তনু কায়সার একজন অসাধারণ প্রাবন্ধিক-গবেষক-কবি-কথাসাহিত্যিক-নাট্যকার-সম্পাদক ও শিক্ষাবিদ। তাঁর রচনা পাঠককে দীপান্বিত করে, বোধকে জাগ্রত ও চেতনাকে শাণিত করে। প্রিয় প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য ১০ খণ্ডে তাঁর রচনাবলি প্রকাশ করে এক অসামান্য দায়িত্ব পালন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একইসঙ্গে ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কারের আজকের আয়োজনও তাৎপর্যবহ। কারণ যে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লেখকরা আজ স্বীকৃতি পেলেন, তারা নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতে আমাদের সাহিত্যকে প্রসারিত করবেন। একজন পূর্বজ গুণী লেখকের নামাঙ্কিত এ পুরস্কার উত্তরপ্রজন্মের লেখকদের জন্য অমূল্য স্মারক হয়ে থাকবে।’






