বাংলা একাডেমি
অবসরে যাওয়া সচিবকেই চুক্তিতে চান সংস্কৃতিমন্ত্রী

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অবসরে যাওয়া বাংলা একাডেমির সচিব মো. সেলিম রেজাকে আবার এই পদে রাখার জন্য সুপারিশ করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গত ১৫ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সুপারিশপত্র পাঠিয়েছেন তিনি।
সেলিম রেজা গত ১০ জুন অবসরোত্তর ছুটিতে গেছেন। তার দু’দিন আগে একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। যেখানে একাডেমি পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
সুপারিশপত্রে সেলিম রেজাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন উল্লেখ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী লিখেছেন, ‘সেলিম রেজা আমার নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা এবং বিশেষ পরিচিত।’
‘বাংলা একাডেমিতে দায়িত্ব পালনকালে সেলিম রেজা প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দায়িত্ব পালনে তার পেশাদারিত্ব, কর্মদক্ষতা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আন্তরিকতা বাংলা একাডেমির কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সহায়ক হয়েছে।’- বললেন সংস্কৃতিমন্ত্রী।
সেলিম রেজার অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) স্থগিত করে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলে তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাংলা একাডেমির চলমান কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে। একই সঙ্গে তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত থেকে জনমানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবেন বলেও মন্ত্রীর ভাষ্য।
সরকার যেকোনো পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারে। কিন্তু সেই নিয়োগ নির্দিষ্ট পদের জন্য ‘অপরিহার্য’ হতে হবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট ব্যক্তি ওই পদে না থাকলে পুরো সেক্টরে জটিলতা তৈরি হবে। তার সমমানের কোনো কর্মকর্তা নেই, যাকে ওই পদে বসানো যায়। এমনকি জুনিয়র কোনো কর্মকর্তাকেও ওই পদের জন্য উপযুক্ত মনে হচ্ছে না। এই ধরনের বিশেষ পরিস্থিতিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিএনপি দীর্ঘদিন সরকারের বাইরে ছিল। সে কারণে প্রশাসনে তারা অনেককেই উপযুক্ত মনে করছে না। তারা যাদের উপযুক্ত মনে করছে তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিচ্ছে। এই নিয়োগ দিতে গিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে স্থবিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।
সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘যারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাচ্ছেন তাদের মধ্যে অনেকেই কাজের। কিন্তু অনেকেই কাজের না। তাদের খুঁজে বের করতে না পারলে প্রশাসনে জটিলতা তৈরি হবে।’
জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একজন কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে গেলে নিচের ধাপের পাঁচজন কর্মকর্তা পদোন্নতি বঞ্চিত হন। তখন তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হতেই পারে। কিন্তু তা বাংলা একাডেমির মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানেও কেন?
ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশ, গবেষণায় নিয়োজিত স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে ‘অমর একুশে বইমেলা’ আয়োজন করে থাকে এ প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া বাংলা ভাষার প্রমিত বানানরীতি নির্ধারণ, অভিধান সংকলন এবং মানসম্মত সাহিত্য ও গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রকাশও প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম কাজ। বাংলা একাডেমির সচিব পদটি উপসচিব মর্যাদার। সরকারের একজন উপসচিবকে এ পদের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়।




