ফরহাদ মজহার
গরিব মানুষের দুঃখ বুঝেন, নইলে উড়ে যাবেন

ছবি: আগামীর সময়
জুলাই অভ্যুত্থানে যে রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন ছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে মনে করছেন কবি ও চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহার। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তিনি ‘গরিব মানুষের দুঃখ’ বোঝার পরামর্শ দিয়েছেন।
আজ রবিবার মিরপুরের শাহ আলী মাজারে এক প্রতিবাদ সমাবেশে ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘পাগল না থাকলে বিপ্লব হবে না, পাগল না থাকলে রাষ্ট্র, সমাজ গঠিত হবে না। পাগলের আরেক নাম জ্যান্তে মরা, তারে কি মারবেন? চব্বিশের অভ্যুত্থানে রাস্তায় নেমে যে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছিল, সেও পাগলই ছিল।’
পাগলের পাশে ফরহাদ মজহার কেন দাঁড়ায়? তার ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছেন, ‘একটা রাষ্ট্র গঠনের জন্য, প্রাণ-পরিবেশ প্রকৃতির জন্য নিরাপদ একটা রাষ্ট্র যেন গড়তে পারি- সেই চেষ্টা করছি। কিন্তু ৫ আগস্টে জীবন দিয়েও আমরা সেই রাষ্ট্র পাই নাই।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘আপনি বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। আপনি এই দেশের গরিব মানুষের ব্যথা বোঝার চেষ্টা করেন। নইলে উড়ে যাবেন।’
গত বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের শাহ আলী মাজারে হামলা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করার তথ্য দিয়েছে।
রবিবার মাজার প্রাঙ্গণে ভক্ত ও আশেকানদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সাধুগুরু ভক্ত ও ওলি-আউলিয়া আশেকান পরিষদ এবং ভাববৈঠকী।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রীতম দাশ বলেছেন, সরকার চাইলে ব্যবস্থা নিতে পারেন। কিন্তু সরকারের নীরবতার কারণেই এসব হামলা বাড়ছে।
এনসিপির আরেক নেতা সারোয়ার তুষার বলেছেন, যারা মাজারে হামলা করতে আসবে, তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখার দরকার নাই। তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। পুলিশের উসকানিতেই এ হামলা হয়েছে। এই হামলার দায় পুলিশ এড়াতে পারবে না। গত দুই বছরে মাজারে যত হামলা হয়েছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন করে দায়ীদের ব্যবস্থা নিতে হবে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ‘আমাদের মত-পথ আলাদা হতে পারে। ধর্মবিশ্বাস আলাদা হতে পারে। কিন্তু আমাদের জালিমের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়তে হবে।’
সমাবেশের অন্যতম সংগঠক কবি মোহাম্মদ রোমেল বলেছেন, মসজিদ-মন্দিরে যেমন হামলা করা যাবে না। তেমনি কোনো মাজারেও হামলা করা যাবে না। ইউনূস সরকার মাজারে হামলা বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেয় নাই। এখন দেখছি বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীলরাও মাজারে হামলা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
১৯ মে থেকে শাহ আলী মাজারে বার্ষিক ওরস শুরু হওয়ার দুদিন আগে এই হামলাকে পরিকল্পিত বলে মনে করছেন রোমেল। তিনি বলেছেন, শাহ আলী মাজারে হামলা মানে সারা বাংলাদেশের মাজারে হামলা। এখানে হামলা করে যে আগুন জ্বালানো হয়েছে, তা নেভাতে হলে এই হামলায় জড়িতদের ব্যবস্থা নিতে হবে।




