দুদকের দুই মামলায় সাবেক বিচারপতি মানিকের জামিন মেলেনি

সাবেক বিচারপতি মানিককে আদালতে নেওয়া হচ্ছে। ফাইল ছবি
জ্ঞাত আয়ের বাইরে ‘সম্পদ অর্জন’ এবং ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের’ মাধ্যমে পূর্বাচলে ‘প্লট আত্মসাতের’ অভিযোগে দুদকের করা পৃথক দুই মামলায় কারাবন্দি সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
অবৈধ সম্পদের মামলায় বিচারপতি মানিকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ ৫ কোটি ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ৮২০ টাকা থাকার অভিযোগ গেল বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কমিশনের উপ-সহকারী পরিচালক পাপন কুমার শাহ দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলা দায়ের করেন। প্লট আত্মসাতের অভিযোগে একই দিনের আরেক মামলা করেন সংস্থার উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন।
একটি মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, বিচারপতি হিসেবে কর্মরত থাকাকালে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৫ কোটি ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ৮২০ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। মামলায় এসব সম্পদের মালিকানা অর্জন করে তা দখলে রাখা এবং হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আরেকটি মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, আসামিরা যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও মিথ্যা হলফনামার মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নেন। পরবর্তীতে লিজ দলিলের শর্ত ভঙ্গ করে বেআইনিভাবে প্লট হস্তান্তর ও আত্মসাৎ করেন। নিয়ম অনুযায়ী রাজউকের অধিক্ষেত্রে কারও পূর্বে বাড়ি থাকলে নতুন প্লট বরাদ্দ দেওয়া যায় না।
আবেদনকারীকেও প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট স্বাক্ষরিত হলফনামা দিতে হয়, যাতে বলা থাকবে তিনি বা তার নির্ভরশীলরা এ এলাকায় জমি, ফ্ল্যাট বা বাড়ির মালিক নন। কিন্তু শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বাড্ডা থানার ভাটারা মৌজায় পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি এবং নির্মাণাধীন বাড়ি থাকা সত্ত্বেও হলফনামায় অসত্য তথ্য দেন।
পরবর্তীতে রাজউক কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে পূর্বাচল প্রকল্পের প্লট নিজের নামে রেজিস্ট্রিভুক্ত করেন। তৎকালীন রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা, সদস্য (অর্থ) মো. আবু বকর সিকদার, সদস্য (পরিকল্পনা) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার এবং সদস্য (উন্নয়ন) এম মাহবুবুল আলম লিজ দলিলের শর্ত ভঙ্গ করে কাশমিরি কামালকে আমমোক্তার হিসেবে অনুমোদন দেন।
পরে ৫০ লাখ টাকায় জমিটি বিক্রি করে তার নামে নামজারির অনুমোদন দেন তৎকালীন সদস্য আব্দুল হাই ও সাবেক চেয়ারম্যান জি এম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া। তারা সক্রিয়ভাবে বিচারপতি মানিককে প্লট আত্মসাতে সহায়তা করেন। কাশমিরি কামালও প্রতারণামূলকভাবে মিথ্যা অঙ্গীকারনামা দিয়ে লিজ দলিলের শর্ত ভঙ্গ করেন। তিনি প্রথমে আমমোক্তার হন এবং পরে জমিটি ক্রয় করে নিজের নামে নেন।
আসামিরা যোগসাজশে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারি প্লট আত্মসাৎ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৩ অগাস্ট সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে স্থানীয় জনতার সহায়তায় আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরদিন সকালে তাকে কানাইঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়। ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে সিলেটের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
১৭ সেপ্টেম্বর সিলেট অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় কারামুক্ত হতে পারেননি। পরে সিলেট থেকে তাকে ঢাকায় আনা হয়। জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।




