বার কাউন্সিল অ্যাডহক কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ হাইকোর্টে

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল—ফাইল ছবি
সরাসরি নির্বাচন না দিয়ে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক ও তদারকি সংস্থা ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিল’-এর জন্য সদ্য গঠিত অ্যাডহক কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করেন।
রিট দায়েরের পর ইউনুছ আলী বললেন, ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আইনে বলা আছে, মহামারির মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য অ্যাডহক কমিটি গঠন করা যেতে পারে। বর্তমানে দেশে এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি বিদ্যমান নেই। এছাড়া আগের কমিটিটিও অ্যাডহক ছিল। ফলে নতুন করে গঠিত অ্যাডহক কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।’
আগামী রবিবার এই রিটের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে জানালেন আইনজীবী।
এর আগে মঙ্গলবার সরকার বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ১৫ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে। এতে চেয়ারম্যান (পদাধিকার বলে) হয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
কাউন্সিলের অন্য সদস্যরা হলেন- সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন সরকার, সিনিয়র অ্যাডভোকেট এ এইচ এম মুশফিকুর রহমান তুহিন, সিনিয়র অ্যাডভোকেট রাগীব রউফ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন অসীম, অ্যাডভোকেট সরকার তাহমিনা বেগম সন্ধ্যা, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, অ্যাডভোকেট মো. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আলী আসগর, অ্যাডভোকেট সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান মিলন।
গতকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাক্টিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর আর্টিক্যাল ৮ এর ক্লজ ২ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই অ্যাডহক বার কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অ্যাডহক বার কাউন্সিল আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে।
এদিকে, নির্বাচন ছাড়াই অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রতিবাদ জানিয়েছে আইনজীবীদের একটি অংশ। তারা বলছেন, সমঝোতার মাধ্যমে বার কাউন্সিল দখল করে নিয়েছেন বিএনপি ও জামায়তপন্থি আইনজীবীরা।
বার কাউন্সিল নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো চলতি বছরের ১৯ মে। কিন্তু ইরানের উপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ শুরু হলে তেল সঙ্কটের অযুহাতে গত এপ্রিলে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর যুদ্ধ স্থগিত হলেও বার কাউন্সিল নির্বাচন আর হয়নি।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বার কাউন্সিল নির্বাচন হয়ে থাকে তিন বছর পর পর। নির্বাচনে ১৪টি পদ বা আসনে ভোট হয়। এর মধ্যে সাধারণ আসনে সাতজন ও সাতটি অঞ্চলভিত্তিক আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে একজন করে আরও সাতজন নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ১৪ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত হন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান। পদাধিকারবলে কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অ্যাডহক কমিটি গঠনের মাধ্যমে বার কাউন্সিলের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।





