মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে গবেষণার নির্দেশ

ফাইল ছবি
মোবাইল টাওয়ারের মাধ্যমে রেডিয়েশন বিকিরণের ফলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, সে ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞ টিম দ্বারা একটি গবেষণা পরিচালনা করে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
জনস্বার্থে মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)’ এর দায়ের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছেন বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ।
এছাড়া এ বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আগের রায়ের আলোকে অন্যান্য নির্দেশনা ও পরামর্শ, বিশেষ করে পাবলিক প্লেসে অর্থাৎ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, আদালত ইত্যাদি স্থানে টাওয়ার স্থাপন না করার বিধান গাইডলাইনে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি এ বিষয়ে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদনও আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। অন্যদিকে বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজুর নাহিদ।
মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণের মাধ্যমে মানুষ, পশু, পাখি, গাছপালা ইত্যাদির ক্ষতি হচ্ছে মর্মে মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশিত হলে এ সম্পর্কিত রিপোর্ট সংযোজন করে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। আবেদনটির শুনানি করে ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন আদালত। সেই রায়ে বিটিআরসিকে ফিল্ড সার্ভে করে বর্তমান মাত্রা কতটুকু কমানো যায় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে রায়ে জনসমাগম স্থলে অর্থাৎ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও আদালত পাড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় যাতে এ ধরনের টাওয়ার স্থাপন করা না হয় গাইডলাইনে তা অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
আদালতের রায়ের পরে বিটিআরসি একটি কমিটি করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। যেখানে রেডিয়েশন একইভাবে আগের মাত্রা বহাল রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। জবাবে এইচআরপিবির পক্ষে ওই প্রতিবেদনের বিষয় আপত্তি জানানো হয়।
আবেদনের শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক রায়ে বিশেষজ্ঞ মতামত শোনার আদেশ দেন আদালত। সে অনুসারে বুয়েটের প্রফেসর কামরুল হাসান আদালতে এসে বক্তব্য দেন এবং ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল একটি লিখিত প্রতিবেদন আদালতের নিকট দাখিল করেন। যেখানে তিনি মোবাইল টাওয়ার থেকে রেডিয়েশনের মাত্রা কমানোর সুপারিশ করেন। একইসঙ্গে এই ধরনের মাত্রা কী পরিমাণ ক্ষতি করছে সে ব্যাপারে বাংলাদেশে একটি গবেষণার প্রস্তাব করেন।
২০১৯ সালে রায় হলেও এ পর্যন্ত বিটিআরসি এরকম কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি এবং তারা ভারত, চীন, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে এই মাত্রা কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটিকে আমলে না নিয়ে এখনও বিকিরণের আগের মাত্রা কার্যকর রেখেছে।




