কারামুক্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক
এক বছরেরও বেশি সময় কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। আজ বুধবার বিকালে ঢাকার বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। কারা সদর দপ্তরের অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির আগামীর সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাবেক প্রধান বিচারপতির আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন বলেছেন, ‘কারামুক্তির পর তাকে নিজের বাসায় নেওয়া হয়েছে। আজই চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।’
গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে হত্যা, দুর্নীতি ও বিস্ফোরক আইনসহ মোট ৯টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলাগুলোর মধ্যে ছিল যাত্রাবাড়ী থানায় যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ, শিক্ষার্থী মো. আরিফ ও খোবাইব হত্যা মামলা, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দর থানার দুটি মামলা এবং বিচারক হিসেবে দুর্নীতি ও বিদ্বেষমূলকভাবে বেআইনি ও জাল রায় তৈরির অভিযোগের মামলা। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি মামলা, আদাবর থানায় গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা এবং বনানী থানায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় মামলা ছিল তার বিরুদ্ধে।
আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় গত ২৮ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বেঞ্চ তার ৫টি মামলায় জামিন বহাল রাখেন। ১২ মে আদাবর ও যাত্রাবাড়ী থানার আরও দুটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান, যা ২০ মে বহাল রাখেন চেম্বার আদালত। সর্বশেষ ৩০ মে হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ থেকে অবশিষ্ট মামলায় জামিন মিললে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতও তা বহাল রাখেন। যদিও নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে এতদিন তিনি কারামুক্ত হতে পারেননি।
২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এ বি এম খায়রুল হক। তিনি অবসরে যান ২০১১ সালের ১৭ মে।







