ঘোড়ার মাংস বিক্রি বন্ধে হাইকোর্টে রিট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশে ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধকরণ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। আজ সোমবার বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, একে খান হেলথ কেয়ার ট্রাস্ট এবং অভিনেত্রী জয়া আহসান জনস্বার্থে করেন এই রিট।
আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব জানিয়েছেন, ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করেছেন তারা। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া পাননি। ফলে রিট পিটিশনটি করেছেন।
রিট আবেদনে জনস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা, ভোক্তা সুরক্ষা এবং প্রাণিকল্যাণের ওপর গুরুতর ও চলমান হুমকির প্রেক্ষাপটে, বিশেষত অসুস্থ ঘোড়া জবাই করে প্রতারণামূলকভাবে মানুষের খাদ্য হিসেবে বাজারজাত করার বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।
আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি অবৈধ কসাইখানার সন্ধান পাওয়া যায়। একটি কটন (তুলা) কারখানাকে কাসইখানা করে সেখানে অবৈধভাবে ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য করছিল একটি চক্র। ওই অভিযানে প্রায় ৩৬টি অসুস্থ ঘোড়া ও ৮টি জবাই করা ঘোড়ার মৃতদেহ এবং বিতরণ ও বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়।
এতে আরও বলা হয়েছে, উদ্ধার করা ঘোড়াগুলোকে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক অবস্থায় পাওয়া যায়। সেগুলো চরম অপুষ্টি, দীর্ঘদিনের চিকিৎসাবিহীন সংক্রমণ, উন্মুক্ত ক্ষত, পোকা সংক্রমণ, টিউমার এবং বিভিন্ন গুরুতর আঘাতে আক্রান্ত ছিল। পরে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স ইউনিভার্সিটি কর্তৃক পরিচালিত ভেটেরিনারি পরীক্ষায় এসব প্রাণীর মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী সংক্রমণ, ছত্রাকজনিত দূষণ এবং সন্দেহজনক যক্ষ্মা সংক্রমণের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।
এই দূষিত ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ মাংস প্রতারণামূলকভাবে মানুষের খাদ্য হিসেবে বাজারজাত ও বিক্রি করা হচ্ছিল। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এই ঘোড়ার মাংসকে গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করে সাধারণ ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব অবৈধ কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধে নির্দেশনা এবং মনিটরিং ব্যবস্থার কথা জানালেও বাস্তবে তার কার্যকর ও ধারাবাহিক প্রয়োগ দেখা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৬০ দিনের মধ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণরূপে বন্ধে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে রিটে। একই সঙ্গে জব্দকৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোড়াগুলোর নিলাম অবিলম্বে বন্ধ করা এবং উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলোর সেবা, আশ্রয় ও পুনর্বাসনের জন্য উপযুক্ত সুবিধা বা অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে এতে।





