মাতৃত্বকালীন ছুটি সীমিত করার বিধানের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা সীমিত করার বিধান কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আজ সোমবার জনস্বার্থে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
বাংলাদেশের কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান গত ১৫ জুন রিটটি করেন। তিনি নিজেই আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন।
রুলে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ৪৬(২) ধারা, ৪৬(১)-এর শর্ত এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের ১৯৭ নম্বর বিধান কেন সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের কর্মজীবী নারীদের জন্য সমান মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। এ বিষয়ে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিবসহ ১২ জন বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, মাতৃত্বকালীন ছুটি কোনো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নয়; এটি মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য, মর্যাদা, সমতা ও সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে এ সুবিধা থেকে কর্মজীবী নারীকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
এতে আরও বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি খাতে ভিন্ন ভিন্ন মাতৃত্বকালীন নীতিমালার কারণে কর্মজীবী নারীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। যা আইনের দৃষ্টিতে সমতার নীতির পরিপন্থী।
বর্তমান বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস অনুযায়ী, একজন নারী সরকারি কর্মচারী চাকরিকালে সর্বোচ্চ দুইবার প্রসূতি ছুটি পান। তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে তিনি এ সুবিধা পান না।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বললেন, ‘মাতৃত্বকালীন ছুটি কোনো পুরস্কার নয়, এটি একটি প্রয়োজন। প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে যেমন একজন মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে, তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি হতে পারে। শুধু তৃতীয় সন্তান হওয়ার কারণে কোনো শিশু বা তার মাকে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।’
দেশের সব কর্মজীবী নারীর জন্য বৈষম্যহীন ও সমান মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করতেই এই রিট করা হয়েছে। তার মতে, মামলাটির চূড়ান্ত রায় মাতৃত্বকালীন অধিকার, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা এবং শ্রম অধিকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।






