আজহারীর ডিপফেক ভিডিও বানিয়ে প্রতারণা, দুই আসামি রিমান্ডে

ছবি: আগামীর সময়
ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে ডিপফেক ভিডিও বানিয়ে যৌন উত্তেজক পণ্য বিক্রির অভিযোগে করা মামলায় দুই যুবকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে অপর আট আসামির রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের পাঠানো হয়েছে কারাগারে।
আজ মঙ্গলবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন মো. সারাফাত হোসেন (২৪) ও মো. শাফায়েত হোসেন শুভ (২১)। কারাগারে পাঠানো হয়েছে শাহাদাত তৌফিক (২১), মো. ইমাম হোসেন বিজয় (২১), মো. রফিকুল হাসান (২১), মিনহাজুর রহমান শাহেদ (১৯), তৌকি তাজওয়ার ইলহাম (২১), অমিদ হাসান (২১), মো. আব্দুল্লাহ ফাহিম (২১) ও মো. ইমরান (২৪)।
এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক সামিম হোসেন তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চান। শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং বাকি আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে ২৩ এপ্রিল বিলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন পল্টন মডেল থানায়। মামলার পর ঢাকার পল্টন মডেল থানা ও চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামের শেরশাহ কলোনি এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। ২৫ এপ্রিল তাদের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল প্রতারণা চালিয়ে আসছিল একটি চক্র। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ড. আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে তার চেহারা ও কণ্ঠ হুবহু নকল করত। পরে সেই ভুয়া ভিডিওতে তার কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ইউরোসিন’ নামের একটি যৌন উত্তেজক পণ্যের প্রচারণা চালানো হতো।
চক্রটি ‘আজহারী শপ’, ‘ডক্টর সেবা’, ‘হালাল শপ’সহ ২৪টির বেশি ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে এসব ভিডিও প্রচার করত। সাধারণ মানুষ ভিডিও দেখে বিশ্বাস করে পণ্য অর্ডার দিতেন। এরপর ‘পাঠাও’ ও ‘স্টিডফাস্ট’ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য পাঠিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হতো বিপুল অর্থ।



