কঠিন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
সার নীতিমালা ২০২৫ বাতিলের দাবিতে প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন

ছবিঃ আগামীর সময়
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫ বাতিল করে নীতিমালা-২০০৯ বহাল রাখার দাবিতে মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সারাদেশের সার ডিলাররা এ কর্মসূচি পালন করেন।
আগামী ২ কর্মদিবসের মধ্যে ডিলারদের যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি সরকার মেনে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) কঠিন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন।
এই নীতিমালার কারণে দেশের কৃষি সেক্টরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে উল্লেখ করে সরকারকে দায় নেওয়ার সতর্কতা দেন বক্তারা।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওয়ালিউর রহমানসহ সারাদেশ থেকে আসা জেলা ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে অন্তর্বর্তী সরকার একটি বিশেষ মহলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ করেন বক্তারা। ‘বিগত কেয়ার টেকার সরকার সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারদের মতামত না নিয়ে কোনো একটি মহলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য তড়িঘড়ি করে সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা ২০০৯ বাতিল করে নীতিমালা-২০২৫ প্রণয়ন করে। আর তা বাস্তবায়নের জন্য এই সরকারের ওপর দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যেটা বাস্তবায়ন করা হলে দেশের কৃষি সেক্টরে বিরাট বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম দেখা দেবে।’
সরকার সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের পরামর্শ ও মতামত নিয়ে কৃষিবান্ধব একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান বিএফএর ডিলাররা।
মানববন্ধনে সারাদেশের প্রায় ২০ হাজার বিসিআইসির ডিলার ও খুচরা সার ডিলার উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, নতুন সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। এমন পরিস্থিতি কারোই কাম্য নয়।
তারা নীতিমালা-২০২৫’কে জনস্বার্থবিরোধী নীতিমালা বলে আখ্যা দিয়েছেন। ‘বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই নীতিমালা-২০০৯ বহাল রাখার জন্য কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াছিনের কাছে আবেদন জানিয়েছি। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বেশ কয়েকটি মিটিংয়ের মাধ্যমে তাকে সার্বিক বিষয় সম্পর্কে জানানো হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে মন্ত্রী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বিএফএ নেতৃবৃন্দ মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।’
নীতিমাল-২০০৯-এর মাধ্যমে দেশে সার সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সার বিতরণে কোনো অনিয়মের অভিযোগ নেই। ১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সার ক্রাইসিসের পর প্রণীত নীতিমালা-২০০৯ কৃষকের দোরগোড়ায় সহজে সার বিতরণে যথেষ্ট বলে এটা বহাল রেখে নতুন নীতিমালা দ্রুত স্থগিত ঘোষণার আহ্বান জানালেন বক্তারা।
নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে ৪৬ হাজার খুচরা ডিলার তাদের বাজারে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ এবং ব্যাংক লোন রেখেই বেকার হয়ে যাবে। যার ফলে এই সেক্টরে একটা চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করবে এবং সার ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়বে, যোগ করেন তারা।

