আগামীর সময়

‘ইস্টার সানডে’ সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্তের দাবি

‘ইস্টার সানডে’ সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্তের দাবি

ছবিঃ আগামীর সময়

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’কে সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন।

আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে মানববন্ধন কর্মসূচি। এতে অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা ছাড়াও অংশ নেন বিভিন্ন গির্জা ও খ্রিষ্টান সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

আগামী ৫ এপ্রিল খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ বা ‘পুনরুত্থান রোববার’ উদযাপিত হবে। আয়োজকদের দাবি— ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ দিনটি ছুটির আওতায় না থাকায় খ্রিস্টানদের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে ধর্মীয় আচার পালনে বাস্তবিক সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।

‘ইস্টার সানডে খ্রিষ্টান বিশ্বাসের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। এটি কর্মদিবস হিসেবে থেকে যাওয়ায় বহু মানুষকে ধর্মীয় কর্তব্য ও পেশাগত দায়বদ্ধতার মধ্যে বেছে নিতে হয়, যা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়’—বলছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও।

সংগঠনের মহাসচিব হেমন্ত আই কোড়াইয়ার ভাষ্য, এটি নতুন কোনো দাবি নয়; দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে উত্থাপিত একটি বিষয়। আমরা আশা করি, সরকার বিষয়টিকে নীতিগত ও প্রশাসনিক-উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করে একটি বাস্তবসম্মত সমাধানে পৌঁছাবে।

‘বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ইস্টার সানডে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। বাংলাদেশেও একই ধরনের স্বীকৃতি ধর্মীয় স্বাধীনতার চর্চাকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে’— মনে করেন রমনা ক্যাথেড্রাল চার্চের পাল-পুরোহিত ফাদার আলবার্ট টি. রোজারিও।

ঢাকা ক্রেডিটের সেক্রেটারি মঞ্জু মারীয়া পালমা বলেছেন, বিষয়টি কেবল একটি ছুটির প্রশ্ন নয়; এটি ন্যায্যতা, সমতা এবং নাগরিক অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। রাষ্ট্রীয় নীতিতে এ ধরনের স্বীকৃতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আস্থা জোরদার করে।

অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব জেমস সুব্রত হাজরা বলেছেন, আসন্ন ৫ এপ্রিলের ইস্টার সানডে উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে একদিনের ছুটি ঘোষণা একটি তাৎপর্যপূর্ণ সূচনা হতে পারে, যা ভবিষ্যতে স্থায়ী নীতিগত অন্তর্ভুক্তির পথ তৈরি করবে।

এর আগে গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) একই দাবিতে লিখিত অনুরোধপত্র দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে।

    শেয়ার করুন: