আগামীর সময়

মৃত্যুর মুখে বিন্তি বলে গেল হত্যাকারীর নাম

মৃত্যুর মুখে বিন্তি বলে গেল হত্যাকারীর নাম

ছোট ভাইকে নিয়ে সবজি কিনতে বের হয়েছিল বিন্তি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসার সামনে রক্তাক্ত দেহ নিয়ে লুটিয়ে পড়ল সে। জ্ঞান হারানোর আগে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিবেশীর কাছে বলে গেল, ‛সিয়াম আমাকে ছুরি দিয়ে মেরেছে’।


হাজারীবাগের হায়দার গলিতে বুধবার রাতে ছুরিকাঘাতে নিহত স্কুলছাত্রী শারমিন বিন্তির পরিবার ও প্রতিবেশীদের বর্ণনায় মিলেছে এ তথ্য। এর ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে আটক করা হয়েছে সিয়াম নামের তরুণকে। তার কাছ থেকে রক্তমাখা পোশাক ও ছুরি উদ্ধারের কথা জানায় হাজারীবাগ থানা পুলিশ।  


পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন বিন্তিকে উত্ত্যক্ত করছিল সহপাঠী সিয়াম। এরই জেরে হত্যাকাণ্ড। তবে পুলিশ বলছে, হামলাকারীর সঙ্গে মেয়েটির ছিল প্রেমের সম্পর্ক। ছুরি নিয়েই তার সঙ্গে দেখা করতে আসে সন্দেহভাজন সিয়াম।


এলাকার দুটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে ঘটনাটি। প্রথম ফুটেজে এক যুবকের সঙ্গে হাঁটতে দেখা গেছে বিন্তিকে। পরের ফুটেজে ছেলেটিকে দেখা যায় একা। হাতে থাকা ছুরি পরিষ্কার করছিলেন তিনি।


ঘটনাস্থলে থাকা বিন্তির পাশের বাড়ির এক নারী জানান, ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত মেয়েটি তার গায়ে ঢলে পড়েই বলতে থাকে সিয়ামের নাম। রাস্তায় স্থানীয় অনেকের সামনেই তার ওপর হামলা হয়। তাকে বাঁচাতে বা হামলাকারীকে ধরতে এগিয়ে আসেনি কেউ।


প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানান, ‘আমি শুনেছি মেয়েটি বলেছে আমাকে বাঁচাও,বাঁচাও। পরে আমি দেখেছি ওই ছেলেটার ছুরি হাতে, সঙ্গে মোবাইল। হাতে রক্ত ছিল। সেই রক্ত মুছিতেছিল সে।’


নিহতের মা নাদিয়া বেগম জানালেন, স্থানীয়দের হইচই শুনে বাসার নিচে নেমে তিনি দেখেন মেয়ের রক্তাক্ত অচেতন দেহ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।


১৪ বছরের শারমিন বিন্তির বাড়ি শরীয়তপুরের সখিপুর থানার কাছিকাটা গ্রামে। হাজারীবাগের হায়দার আলী হোটেলের পাশে একটি ভাড়া বাড়িতে পরিবারের সাথে থাকত সে। পড়ত রায়েরবাজার হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে।

নাদিয়া বেগমের অভিযোগ, ‛তিন-চার বছর আগে থেকে সিয়াম মোবাইলে আমার মেয়েকে ডিস্টার্ব করত। একদিন আমি নিজেই তাকে মোবাইলে বকাবকি করি। আজকে আমার মেয়েকে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। খুনি সিয়ামের ফাঁসি চাই।’


বিন্তির বাবা মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল হোসেন রাতে হাসপাতালে বলছিলেন, ‘সিয়াম, একই স্কুলে পড়ত তারা। আমি কিছু বলতে পারছি না। আমি ওপরে ছিলাম। নিচে এসে দেখলাম আমার মেয়েকে কুপিয়ে রেখে গেছে। আমি এখন শুনলাম একটি ছেলে তাকে ডিসটার্ব করত, সেই ছেলেই এসেছে। সিসিটিভি ফুটেজও পাওয়া গেছে।’


নিহতের কাঁধে ও পিঠে একাধিক জখম আছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক।


সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলম জানালেন,  কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে আগে থেকে সঙ্গে আনা ছুরি দিয়ে মেয়েটিকে আঘাত করে অভিযুক্ত। ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত।


ঘটনার পরপরই প্রাথমিক তদন্তে যান হাজারীবাগ থানার ওসি হাফিজুর। তার বক্তব্য, ‛প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে ছুরিকাঘাত করে মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত এর বেশি কিছু জানতে পারিনি।’



    শেয়ার করুন: