আগামীর সময়

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

দীর্ঘদিন পর বঙ্গভবন ছিল প্রকৃত ‘উৎসবমুখর’

দীর্ঘদিন পর বঙ্গভবন ছিল প্রকৃত ‘উৎসবমুখর’

ছবিঃ আগামীর সময়

দীর্ঘদিন পর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বঙ্গভবন প্রাঙ্গণে দেখা গেছে প্রকৃত ‘উৎসবমুখর পরিবেশ’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক অতিথিই এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও তার সহধর্মিণী ফার্স্ট লেডি ডা. রেবেকা সুলতানা বঙ্গভবনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি দম্পতি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। পরবর্তীতে বিদায়ের সময়ও একইভাবে বাজানো হয় জাতীয় সংগীত।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকেই আমন্ত্রিত অতিথিরা বঙ্গভবনে আসতে শুরু করেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেন এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সড়ক যোগাযোগ ও রেল মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, সাবেক মন্ত্রী ওসমান ফারুক এমপি ও অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

এছাড়া প্রধান বিচারপতিসহ হাইকোর্টের বেশ কয়েকজন বিচারপতি, এটর্নি জেনারেল, তিন বাহিনীর প্রধান, আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামসহ কূটনীতিক, সচিব, পেশাজীবী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেক অতিথিই তাদের সহধর্মিণীসহ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য ছিল বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের ব্যবস্থা। পাশাপাশি শিশু শিল্পী ও সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষিত সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক সংগীত অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে এবং আগত অতিথিদের মুগ্ধ করে। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি দম্পতি অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর এবারের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস অনাড়ম্বর কিন্তু উৎসবমুখর পরিবেশে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উদযাপিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলো এমন অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে হবে— এমনই প্রত্যাশা’, বলছিলেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার।

‘প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রী মরহমা বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে সর্বশেষ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছিল আনন্দময় পরিবেশে। তারপর এক-এগারোর অবৈধ ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের শাসন দেশের গণতন্ত্র নস্যাৎ করে দেশকে বহুবছর পিছিয়ে দেয়। জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আজ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাওয়ায় এমন আনন্দ। গণতন্ত্র রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব’, ব্যাখ্যা করেন এই আইনজীবী।

উপস্থিত অনেক অতিথির মতে, এবারের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস দীর্ঘদিন পর আনন্দময়, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে।

    শেয়ার করুন: