বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ফাইল ছবি
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ যেতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় বাধা অর্থনৈতিক ভোগান্তি। ব্যাংক গ্যারান্টি, টিউশন ফি, ভিসা প্রসেসিংসহ নানা খরচ জোগাতে গিয়ে অনেকেই মাঝপথে থেমে যেতে বাধ্য হন। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের এই চাপ কমাতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর এ কথা জানান।
ঈদুল ফিতরের টানা ছুটির পর আজ মঙ্গলবার ছিল প্রথম কার্যদিবস। এদিন দুপুরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ে গঠিত কমিটির কাজের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
সভা শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী জানান, উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের এখন থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক গ্যারান্টি বা ঋণ সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলছেন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক শিক্ষার্থীদের যে ঋণ দেবে সেই টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া যাবে না। বরং শিক্ষার্থীদের কোথাও পেমেন্ট বা ফি দেওয়ার প্রয়োজনে এই টাকা ব্যবহার করা যাবে। শিক্ষার্থীরা যাতে বিদেশ যেতে পারে সেক্ষেত্রে এই টাকা ব্যবহার করা যাবে। এই ঋণের জন্য কোনো জামানত লাগবে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের কোনো ক্ষতি হবে না। বরং আরও বেশি চাহিদা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রতি জোর দিয়েছেন। আমাদের দেশের মানুষ ভাষা না জানার কারণে অল্প টাকার চাকরি করে, ভাষা জানলে তারা বেশি বেতন পেতে পারে।
জাপানসহ ইউরোপে কীভাবে লোক পাঠানো যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া ইউরোপের যেসব দেশের ভিসার জন্য ভারতে যেতে হয়, সেসব দেশের কনস্যুলার সেবা বাংলাদেশে চালু করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।
বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য চেষ্টা চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
ঈদের আমেজ কাটিয়ে প্রথম কার্যদিবসে সকাল ৯টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দিনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

