রাজশাহী সিটিতে মশা নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র পরিচ্ছন্নতা
- ফগিংয়ের পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কার-লার্ভা ধ্বংসে জোর

সংগৃহীত ছবি
মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিং নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ড্রেন পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ ও দ্রুত বর্জ্য সরানোর ওপর জোর দিচ্ছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। বাড়ি বাড়ি সচেতনতা, লার্ভিসাইডিং ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে সমন্বিতভাবে। লক্ষ্য— মশার বিস্তার ঠেকিয়ে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমানো।
রাসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ জানিয়েছে, নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে আয়তন অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মশককর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন ঝোপ-জঙ্গল ও ছোট-বড় ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং দ্রুত অপসারণ করা হচ্ছে আবর্জনা। দৈনিক মজুরিভিত্তিক ৮০০ জনবল এ কাজে যুক্ত। এর মধ্যে ৩০৯ জন ড্রেন শ্রমিক, ১৭৭ জন ভ্যান শ্রমিক, ২৮৮ জন ঝাড়ুদার ও ২৬ জন পরিচ্ছন্নতা সুপারভাইজার। মশক নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন ৪০ জন মশক শ্রমিক ও পাঁচজন সুপারভাইজার।
দীর্ঘদিন পরিষ্কার হয়নি এমন ড্রেন চিহ্নিত করে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। ড্রেন থেকে তোলা কাদা-মাটি ও আবর্জনাও দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রাইমারি, সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি— সব ধরনের ড্রেন সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ, ড্রেনে কাদা-মাটি ও আবর্জনা জমে পানি আটকে গেলে মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে।
নগর জুড়ে নিয়মিত ফগিংয়ের পাশাপাশি লার্ভিসাইডিং চলছে। অর্থাৎ মশা উড়ে বেড়ানোর আগেই লার্ভা ধ্বংসের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে পানি জমে আছে কি না, তা পরিদর্শন করছে। পানি জমে থাকলে তা অপসারণের পাশাপাশি নাগরিকদের সতর্ক করা হচ্ছে। লিফলেট বিতরণ, মসজিদসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে সচেতনতার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।
মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে স্বাস্থ্যকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ওয়ার্ড সচিবদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন এলাকায় লার্ভা পরীক্ষা ও এডিসের প্রজননস্থল শনাক্তের উদ্যোগ রয়েছে। প্রয়োজন হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
রাসিকের সিটি হাসপাতাল ও ১২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট রাখা হয়েছে। ১০ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ওয়ার্ড ও কেন্দ্রীয়ভাবে ফগিংয়ের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে।
মশা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নগরীতে ১৯টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) রয়েছে। প্রতিদিন এসব স্টেশন থেকে বর্জ্য ডাম্পিং সাইটে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাসিকের হিসাবে, প্রতিদিন প্রায় ৪০০ টন কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। সাধারণ সময়ে উৎপাদন হয় ৪০০ থেকে ৪৫০ টন; ফলের মৌসুমে তা ৪৫০ থেকে ৫০০ টনে পৌঁছে।
আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বর্জ্য থেকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।
রাসিকের উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু বললেন, ‘মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম প্রতিদিনের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার সঙ্গেই পরিচালিত হচ্ছে। ড্রেন পরিষ্কার, ঝোপ-জঙ্গল অপসারণ, বর্জ্য দ্রুত সরিয়ে নেওয়া এবং লার্ভা ধ্বংসের মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।’
রাসিকের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বললেন, ‘সুন্দর নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার সময় সুন্দর রাজশাহী আরও সুন্দর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলা যায় সেই নির্দেশনা দিয়েছেন। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, মশা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিক সচেতন করে তোলার কাজ নিয়মিত চলছে। এভাবেই আমরা সুখী-সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে কাজ করছি।’






