আগামীর সময়

১৮ মাস পর বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার

১৮ মাস পর বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার

প্রায় ১৮ মাস পর নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার পেল বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবারের মন্ত্রিসভায় এক ঝাঁক নতুন মুখ রয়েছে, যারা আগে কখনও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হননি। এমনকি অনেকে এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন।


ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যূত হন টানা ১৫ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা। এর তিনদিন পর ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।


প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নোবেলজয়ী ইউনূস দায়িত্ব নিয়ে সংস্কার, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের জন্য চাপ প্রয়োগ শুরু করলে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাস পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের টাইম ফ্রেম ঘোষণা করেন।

সেই হিসেবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি।


ভূমিধস বিজয়ের পর আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রথমে শপথ নেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা, পরে প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এর মাধ্যমে দেড় বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার পেল বাংলাদেশ।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক চড়াই-উতরাই পার হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। অবশেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে থাকতে বাধ্য হন তিনি। তারেক রহমান দেশে ফিরতে না-ফিরতেই ৩০ ডিসেম্বর মারা যান তার মা,  বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

তবে মাতৃশোক কাটিয়ে ওঠার আগেই রাজনীতির মাঠে নেমে পড়তে হয় তারেক রহমানকে। অবশেষে আসে সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচনের দিন। নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি এবং জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করে। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়।

একই দিন জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, গণভোটে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ভোটার ‘হ্যাঁ’ এবং ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার জন ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন।

তবে আজ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ অনুসারে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবেন। তবে বিএনপি বলেছে— বিষয়টি সংবিধানে নেই। তারা পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না। এ কারণে সংসদ সচিবালয়ের প্রস্তুতি থাকার পরেও বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়নি।

এদিকে বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় কিছু সময়ের জন্য একধরনের জটিলতার সৃষ্টি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা।

এরপর বিকালে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ দেড় বছর পর আবারও জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার পেল। এতে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ৫০ জন। এরমধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী।

এর আগে সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগের দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে বিদায় নেন ড. ইউনূস। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হয়।

    শেয়ার করুন: